Published on
:
2 min read
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: দশমীর রাতে আলিপুরদুয়ার শহরের কালজানি নদীর ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে পুর প্রশাসনের তরফে ঘাটে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার র্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখান থেকে প্রতিমাগুলিকে নদীর জলে ফেলার সময়ে বেশিরভাগের ঘাড় ভেঙে যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তো বটেই, এমনকী শাসকদলের অন্দরেও এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। শেষমেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগের মতোই জলে নেমে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে প্রশাসন।
তাতে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ থেকে রেহাই মেলেনি। এ নিয়ে প্রশাসনের কর্তারা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রতিমা বিসর্জনের সময়ে এমন ‘অমানবিক’ দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলেই প্রতিবাদ করতে দেখা যায় বেশ কিছু পুজো উদ্যোক্তা এবং দর্শনার্থীদের। বিসর্জন ঘাটে উপস্থিত সুমন ঘোষ বলেন, ‘দুর্গাপুজো এবং প্রতিমা আমাদের কাছে অন্যরকম আবেগের জায়গা। সেই প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়ে এ ভাবে অবমাননা করা হলে সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’ স্থানীয় ইটখোলা দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক সুমিত ভট্টাচার্য বলেন, ‘এর দায় তো নিজেদের সনাতনী বলে দাবি করা সরকারকেই নিতে হবে। এ ভাবে উচ্চতা থেকে মূর্তি জলে ছোড়ার দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছি।’ শহরের সমাজকর্মী রাতুল বিশ্বাস বলেন, ‘কোনও বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকলে জেনে নিতে দোষ কোথায়? যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত অমানবিক। দুর্গা প্রতিমা নিয়ে মানুষের আবেগকে আঘাত করা হয়েছে।’ সমাজমাধ্যমে শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী লেখেন, ‘মা–কে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিদেয় করা বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি নয়। এই বিসর্জন বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিসর্জন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের অপমান।’
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক পরিতোষ দাসও। তাঁর কথায়, ‘একেবারেই অবৈজ্ঞানিক কাজ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের অনেক বেশি যত্নবান হওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি নজরে আসামাত্র হস্তক্ষেপ করেছি। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না–হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে।’
