মো. বেল্লাল হাওলাদার
বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে দেশ মধ্যম আয়ের মর্যাদার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সামগ্রিক উন্নয়ন অভিযাত্রায় ব্যাংকিং খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সেই ধারার অন্যতম শক্তিশালী ও আস্থার নাম হলো শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটি শুরু থেকেই নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহকসেবাকে ভিত্তি করে এগিয়ে চলছে। শরিয়াহ্সম্মত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি ইসলামী ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
২০০১ সালের ১০ মে যাত্রা শুরু করা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা চালু করে আসছে। অনলাইন ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ভিসা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি দ্রুতই গ্রাহকদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এর সেবা পৌঁছে গেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত শাখা, উপশাখা, এটিএম বুথ এবং এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। উন্নত ডাটা সেন্টার, শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি এবং দক্ষ আইটি টিমের মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি বাস্তবায়নে ব্যাংকটি শক্তিশালী ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুলেছে, যা বিভিন্ন ক্রস-প্ল্যাটফর্ম পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হতে সক্ষম। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট ও অ্যাপভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম উন্নয়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা অসংখ্য মার্চেন্ট, ইউটিলিটি সেবা ও ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে নিরাপদে লেনদেন করতে পারছেন। ব্যাংকের দক্ষ আইটি ও সিকিউরিটি টিম দেশি-বিদেশি যেকোনো পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও ইন্টিগ্রেশনে সক্ষম, যা ব্যাংকিং সেবাকে আরও আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন করেছে।
ব্যাংকটি SWIFT সার্ভিস, রিয়েল-টাইম ট্রান্সফার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে বৈশ্বিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বিদেশি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির ধারায় ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকটি কৃষিঋণ, এসএমই, রিটেইল লোন এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি ও সেবার সম্প্রসারণে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে আধুনিক মোবাইল অ্যাপ শাহজালাল টাচপে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট, কর্পোরেট পেমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ইউটিলিটি বিল কালেকশন সেবা চালু করেছে। পাশাপাশি এটিএম ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংকটি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। আলোচিত সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ৩ টাকা ৭ পয়সা এবং নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৯ পয়সা।
এছাড়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকটির মুনাফা এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬৮ কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা বা ১১৮ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবার উন্নয়নের কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
শরিয়াহ্ভিত্তিক নীতিমালা, কর্পোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ব্যাংকটি দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক আজ দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে অবস্থান করছে।
