সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে গভীর রাতে এক কিশোরীকে সৈকতে একা থাকতে দেয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নজরদারি না করায় তার মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। প্রাথমিকভাবে ওই নারীকে দুই মাসের কমিউনিটি সার্ভিসের সাজাও দেয়া হয়।
কৌঁসুলিরা বলেন, শিশুটির নৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন ওই নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরীটি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারও করেছিল। এর ফলে তার ছবি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় ২০১৬ সালের ৩ নম্বর ফেডারেল আইন, যা ‘ওয়াদিমার আইন’ নামে পরিচিত, এর আওতায় ওই নারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সৈকতে শিশুটিকে একা থাকতে দেয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় প্রয়োজনীয় যত্ন ও নজরদারি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
প্রথম পর্যায়ের আদালত ওই নারীকে আনা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাকে দুই মাসের কমিউনিটি সার্ভিসের সাজা দেয়ার পাশাপাশি আদালতের ফি পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়।
ওই নারী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এরপর ফেডারেল আপিল আদালত কমিউনিটি সার্ভিসের সাজা বাতিল করে তার পরিবর্তে ৩ হাজার দিরহাম জরিমানা করেন।
পরবর্তী সময়ে ওই নারী রায় কার্যকরের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত তার আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দেন এবং তাকে মামলার খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। তার যুক্তি ছিল, কমিউনিটি সার্ভিসের সাজা বদলে জরিমানা করায় আইনবহির্ভূতভাবে ওই নারীর শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়
সুপ্রিম কোর্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের যুক্তির সঙ্গে একমত হন। আদালত বলেন, মূল রায়ের বিরুদ্ধে শুধু ওই নারীই আপিল করেছিলেন, প্রসিকিউশন আপিল করেনি।
আদালত ব্যাখ্যা করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি এককভাবে আপিল করলে সেই আপিলের কারণে তার শাস্তি এমনভাবে পরিবর্তন করা যাবে না, যাতে তার অবস্থার অবনতি ঘটে।
এ মামলায় বিচারকদের বিবেচনায়, শুরুতে দেয়া কমিউনিটি সার্ভিসের সাজাটির তুলনায় জরিমানা ছিল আরও কঠোর শাস্তি।
ফলে সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের রায় বাতিল করে শাস্তির বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা ও মূল্যায়নের জন্য মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠান।
এই রায়ে ফৌজদারি বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি স্পষ্ট করা হয়েছে: কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি নিজের সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করলে সেই আপিলের ফলে তার শাস্তি আরও কঠোর করা যাবে না।
