চান্দিনায় সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ, জলপ্রবাহ বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৯:৩১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ভোরের কন্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ক্ষীরনদীর একটি শাখা খালের পাড়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে বালুভর্তি বস্তা ফেলে প্রায় ১০ ফুট চওড়া রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেও চার দিন পর রবিবার সরেজমিনে গিয়ে সেখানে রাস্তা নির্মিত অবস্থায় দেখা গেছে।
এ ঘটনায় সরকারি খালের জায়গা দখল ও জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান শিশনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খালের একাংশ ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান শিশনসহ দুই ব্যক্তি ক্ষীরনদীর শাখা খালের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রেখেই দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জায়গা ব্যবহার করে যাতায়াত করলেও সম্প্রতি খালের একাংশ ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়া থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জড়িত কারো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম ইঞ্জারুল হকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু রবিবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের এক পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে বালুভর্তি বস্তা ফেলে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত এ রাস্তা তৈরিতে খালের জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভরাট করা হলে তা সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়। খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশন ও স্বাভাবিক জলপ্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে খালের জায়গা ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হলে ভবিষ্যতে পানি চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাঁরা সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে খালের জায়গা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুর রহমান শিশন বলেন, আমি ১২ বছর ধরে চলাচলের পথ নিয়ে ভোগান্তিতে আছি। তাই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হলে তাঁরা আমাকে আপাতত খালের পাড় দিয়ে রাস্তা বানিয়ে চলাচলের পরামর্শ দেন।
যদিও গণ্যমান্য ব্যক্তি কারা এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিশন কারো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম ইঞ্জারুল হক বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।গতকাল সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জায়গাটি পরিমাপ করা হয়েছে,এখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সরকারি জায়গা দখল করার এখতিয়ার কারও নেই।
