Published on
:
2 min read
এই সময়, শিলিগুড়ি: পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে। অথচ কোনও মণ্ডপ উদ্বোধনে নেই শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য শঙ্কর ঘোষ। শহরের পুজো উদ্বোধন করানো হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামীজিদের দিয়ে, কোথাও বা ফিতে কাটছেন বিশিষ্টজনেরা।
রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীর দেখানো পথে পুজো উদ্বোধনের রাজনীতি সচেতন ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন শহরের পুজো মণ্ডপের উদ্যোক্তারাও। কারণ, পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে শঙ্কর জানিয়ে দিয়েছিলেন, 'এ বার তো নয়ই, ভবিষ্যতেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনও পুজো উদ্বোধনে যাব না।' রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সম্ভবত শঙ্কর একমাত্র মন্ত্রী, যিনি পুজো উদ্বোধন থেকে সচেতন ভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। শহরের মিত্র সম্মিলনীর পুজো ১০০ বছরে পা দিয়েছে এ বার। মন্ত্রী সেখানেও জানিয়ে দিয়েছেন, সিনিয়র সিটিজ়েন, বিশিষ্ট লোকদের দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করানো হোক।
শঙ্কর একটা সময়ে বাম রাজনীতিতে ছিলেন। বামেরা সচেতন ভাবে পুজো থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন নিজেদের। কিন্তু সেই দল ছেড়ে ২০২১–এ বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধায়কও হয়ে যান। তার পরেও পুজো উদ্বোধন নিয়ে তাঁর অনীহার আসল কারণ, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ক্লাবগুলোর অহেতুক নাচানাচি।
আবার পদ চলে গেলে সেই নেতাকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। জনতার এই দু'রকম আচরণ থেকে দূরে থাকতে চান তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বিশেষ ভাবে সক্ষম প্রায় ৩০০ শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়ে গোটা শহর চষে বেড়ালেন। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, 'পুজো উদ্বোধনে থাকতে চাই না। মানুষ আমায় নির্বাচিত করেছেন যাতে শহরের হাল বদলাতে পারি। সেই কাজে মন দিতে চাই। শিলিগুড়িতে বহু কাজ বাকি। আমার দপ্তরেও কাজের অভাব নেই।' শহরের মেয়র গৌতম দেব প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, 'যেখানে শঙ্কর ঘোষ উদ্বোধনে যাবেন, সেখানে তিনি যাবেন না।' শঙ্কর নিঃশব্দে ওই লড়াই থেকে সরে এসেছিলেন।
এ বারের নির্বাচনে পরাজয়ের পরে তৃণমূল নেতাদের আর দেখা যাচ্ছে না। ক্লাবের কর্মকর্তারাও আর তাঁদের ডাকছেন না। ফলে পর্যটনমন্ত্রীর কাছে পুজো উদ্বোধনের ময়দান একে বারেই খোলা। কিন্তুই গত পাঁচ বছরে অর্জিত আত্ম উপলব্ধি থেকেই পুজো উদ্বোধন পর্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।
