কালবেলা · সাধারণ
অর্ধশতাব্দীর সম্প্রীতির বন্ধন, একই মাঠে মসজিদ-মন্দির
১৯/১০/২০২৬

একপাশে আতরের সুঘ্রাণ, অন্য পাশে ধূপকাঠি। এক পাশে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা, অন্য পাশে পূজা দিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এভাবেই অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে যাচ্ছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা এলাকার শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গামন্দির। ধর্ম ভিন্ন হলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির অটুট বন্ধন দীর্ঘদিনের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান। প্রতিবছরের মতো এবছরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে ওই স্থানে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। স্থানীয় মুসলিম নর-নারীরা প্রতিবেশী হিন্দুদের পূজা উদযাপনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
জানা গেছে, দুই সম্প্রদায়ের আলাদা ধর্মীয় উপাসনালয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে প্রায় ৫০ বছরের অধিক ধরে চলছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দুর্গাপূজার সময় মন্দির থেকে ভেসে আসে ঢাকঢোল, উলু, শঙ্খধ্বনি আর সন্ধ্যায় হয় আরতি অনুষ্ঠান। তবে মসজিদে আজান শুরু হলেই নীরবতা বজায় রাখেন পূজারি ও ভক্তরা। নামাজ শেষ হলেই আবার শুরু হয় পূজার্চনা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ মৃধা বলেন, ‘এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এমনটিই করেছেন। ছোটোবেলা থেকেই তারা পূজা দেখতে মণ্ডপে যান। আবার ঈদে কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানেও আসেন, হিন্দু প্রতিবেশীরা কারো জন্য কোনোদিন ক্ষতির কারণ হয়নি কেউ।’
মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘১৯৭২ সালে আধুনা শেনের বাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দির স্থাপন করা হয়। পরে একই মাঠে আধুনা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত জামে মসজিদে মুসলমান ধর্মের লোকজন তাদের ধর্ম পালন করে আসছেন। আমরা মন্দিরে আমাদের ধর্ম পালন করে আসছি। মসজিদ-মন্দির একই মাঠে হলেও আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’
আধুনা শেনের বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আসলাম আঁকন বলেন, ‘এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলেই হিন্দু ভাইয়েরা ঢাকঢোলের আওয়াজ বন্ধ রাখেন। আজান-নামাজ শেষ হলেই আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। বছরের পর বছর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এখানে যে যার ধর্ম পালন করেন। কেউ কারও প্রতি বিন্দুমাত্র বিরক্তির কারণ হয়নি কখনো।’
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রেমানন্দ বলেন, ‘উপজেলার ৭৫টি মন্দিরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দুর্গাপুজার কার্যক্রম শুরু হবে। এরমধ্যে আধুনা গ্রামের মণ্ডপের পাশেই মসজিদের অবস্থান। এখানে উভয় ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সম্মানের সাথে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। তাদের সম্প্রীতি উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।’
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের একই স্থানে মসজিদ-মন্দির, দীর্ঘ বছর ধরে ওই এলাকায় সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗