কালবেলা · টেক
১০ লাখ রোবটের যুগে অ্যামাজন: ঝুঁকির মুখে কর্মীদের ভবিষ্যৎ?
১৩/১০/২০২৬

বিশ্বজুড়ে দ্রুততম সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দৌড়ে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক রোবট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অটোমেশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন গ্রাহকের কাছে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির ওপর এখন সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।
কোম্পানির নিজস্ব দাপ্তরিক তথ্য ও বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ওয়্যারহাউসগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছে ১০ লক্ষাধিক (১ মিলিয়নের বেশি) রোবট কর্মী। অন্যদিকে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যামাজনে কাজ করছেন ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ। তবে রোবটের পাশাপাশি মানুষের এই সহাবস্থান এবং কাজের গতি নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য কতটা ইতিবাচক, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
অ্যামাজন রোবোটিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট ড্রেসার জানান, বিশ্বজুড়ে তাদের ওয়্যারহাউসগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি রোবট কর্মী রয়েছে। প্রাথমিক যুগের চাকাযুক্ত 'সিকোইয়া' কিংবা 'টাইটান' রোবটের পাশাপাশি এখন তারা যুক্ত করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত আধুনিক রোবোটিক আর্ম বা বাহু- যেমন রবিন, কার্ডিনাল, স্প্যারো এবং স্পর্শ অনুভূতির সেন্সরযুক্ত ভলকান।
অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কাজগুলো রোবটকে দিয়ে করিয়ে মানব কর্মীদের ক্লান্তি ও চোট পাওয়ার সম্ভাবনা কমানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোমেশনের এই প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি। ওয়াশিংটন ভিত্তিক জোট ‘স্ট্র্যাটেজিক অর্গানাইজিং সেন্টার’ এবং জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ব্রায়ান গ্রিনউডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোবটিক ওয়্যারহাউসে বড় দুর্ঘটনা বা গুরুতর আঘাতের হার প্রায় ৪০% কমলেও, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে ৭৭%।
প্রফেসর ব্রায়ান গ্রিনউড জানান, "সহযোগী রোবটের কারণে মানব কর্মীদের কাজের গতি এখন মূলত রোবট নির্ধারণ করছে। দ্রুতগতিতে রোবটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই ভঙ্গিতে বারবার কাজ করতে গিয়ে কর্মীদের পেশী ও হাড়ের ব্যথাজনিত আঘাত আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।"
অ্যামাজন দাবি করছে, রোবট ব্যবহারের পাশাপাশি তারা নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি পদের সৃষ্টি করছে। তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ হওয়া অ্যামাজনের অভ্যন্তরীণ নথি থেকে দেখা গেছে, রোবটের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে অ্যামাজন ২০২৭ সালের মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ নতুন মানব কর্মী নিয়োগ কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।
শ্রম বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি দ্রুত এগোলেও রোবটের সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য রক্ষা করতে ওয়্যারহাউসগুলোতে সঠিক শ্রম নীতি ও নিরাপত্তা আইন নিশ্চিত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗