ভারতে আগামী ৩০ বছরেও কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে কংগ্রেস ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে।
বৃহস্পতিবার নিজের ৬২তম জন্মদিনে দিল্লিতে যমুনা নদী পরিষ্কারের জন্য ৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন বিজেপির এই নেতা।
অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান রাহুল গান্ধীরা। এ কারণেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তাঁদের এত আপত্তি।
এসআইআর বাতিলের দাবি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ রাজপথে নেমেছে। গত ১৩ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লিতে মিছিলও হয়। একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে রেখেছিল। তবে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের কারণে আন্দোলনের গতি থমকে যায়।
সম্প্রতি বিজেপি একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করে, রাহুল গান্ধী চার দিনের ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে বৃহস্পতিবার তাঁকে উদ্দেশ করে অমিত শাহ বলেন, ‘আমি জানি আমার কথা আপনি এখন শুনতে পাবেন না। কারণ আপনি বিদেশে কোথাও বসে আছেন। তার কোনো ব্যাখ্যাও কোনো দিন আপনি দেন না। সে সব ঠিক আছে। ওটা আপনার ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু দিল্লিতে নামার পর আমার কথা শুনে রাখুন। আগামী ৩০ বছরেও আপনি ক্ষমতায় আসাতে পারবেন না।’
ভোট চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি তো ভোটে জিতেই চলেছে। বিরোধীদের তাতে অসুবিধা হচ্ছে। সেই কারণেই তারা ভোট চুরির অজুহাত নিয়ে এসেছে।’
রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গও তোলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘রাহুলজি, আপনি শুধু ভোট চুরি নিয়ে কথা বলেন। কারণ, আপনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান। তাদের ভোটগুলোকে আগলে রাখতে চান।’
অমিত শাহ আরও বলেন, ‘আমি যখন বলি বিজেপি আরও ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তখন বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগ তোলে। জিজ্ঞেস করে, ভোটের ফলাফল অমিত শাহ কীভাবে আগে থেকে জেনে যাচ্ছেন! আসলে অমিত শাহ তো এখানেই জন্মেছেন, এখানেই থাকেন এবং এখানেই মারা যাবেন। প্রতি ছয় মাস অন্তর আমাকে বিদেশে যেতে হয় না। আমি এই দেশের মানুষের মাঝে বাস করি।’
বিরোধীদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘মানুষের রায় আপনারা এ ভাবে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে এবং জনরোষ সৃষ্টি করে বদলাতে পারবেন না। শুধু আন্দোলন করে, অবস্থানে বসে ভোটে জেতা যায় না।’
এমএ
