ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের সাংরুর জেলায় গাড়িচাপায় সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত আট শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়। আহতদের অনেকে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।
সাংরুর জেলার লেহরাগাগা এলাকার ছোতিয়ান গ্রামের কাছে জাখাল রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দ্রুতগতির একটি সেডান গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ২০ জনের বেশি শ্রমিকের ওপর উঠে যায়।
শেভ্রোলেট অপট্রা ম্যাগনাম গাড়িটির চালক পারগত সিং কালা রাইধরানা গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে ছয় নারী ও দুই পুরুষ রয়েছেন। নারীরা হলেন করমজিৎ কৌর, নিকি, সরবজিৎ কৌর, রণজিৎ কৌর, করমজিৎ ও রানি কৌর। পুরুষ দুজন হলেন জীবন সিং ও দেশ রাজ। নিহতদের মধ্যে সাতজন আলিশের গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাকিরা।
কাছের একটি কারখানার শ্রমিক হরবিন্দর সিং দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রথম উদ্ধারকারীদের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, আহত শ্রমিকের সংখ্যা অন্তত ২৩। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
হরবিন্দর বলেন, ‘কারখানা থেকে আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখনো কোনো গ্রামবাসী আসেননি। ঘটনাস্থলে পাঁচ থেকে ছয়টি মরদেহ পড়ে ছিল। নিহত ও আহত সবাই দরিদ্র শ্রমিক।’
প্রশাসনের অবহেলা ও চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পরও সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে। এ সময় আহতরা রাস্তার পাশে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থেকেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাদের অনেকেই রক্তক্ষরণে মারা গেছেন।’
ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রায় ১৫ মিনিট পর অভিযুক্ত চালক পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঘটনাস্থলে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও গ্রামবাসী।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে
