আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাতদিন পর তিহাড় থেকে মুক্তি। তবে আদালতে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েই বেরোলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা। জামিনের মুচলেকায় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ হবে না।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলেই জামিন পান সৌরভ ও আশুতোষ। গতকাল রাতে তিহাড় জেলে থেকে মুক্তি পান দুই নেতা। ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতাকে আরও তিনদিন জেল হেফাজতে রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। যদিও সেই আবেদন খারিজ করেছে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাস।
জানা গিয়েছে, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করেছেন সৌরভ ও আশুতোষ। দু'জনেই আদালতে জামিনের মুচলেকয় জানিয়েছেন, 'শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিনা অনুমতিতে যন্তর মন্তরে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেব না।' এমনকী ভবিষ্যতেও সংবিধান মেনেই প্রতিবাদে সামিল হবেন বলেও জানিয়েছেন দুই নেতা।
নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের জেরে গত ১৪ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির একাধিক শীর্ষনেতাকে ফের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতৃত্ব আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শীন্ডেকে প্রথমে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এরপর অজিঙ্ক শীন্ডেকে পিস বন্ডে সই করিয়ে রেহাই দেওয়া হয়। অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দেন, এবার থেকে আর যন্তর মন্তরে কোনও আন্দোলন করা যাবে না। সেই নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ককরোচ জনতা পার্টির তিন শীর্ষ নেতা ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন। এরপর সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়িয়ে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তিনজনেই। এরপরই রাতে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরেরদিন সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতাই ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার বন্ডে যে সই করেছিলেন, তাও লঙ্ঘন করেছেন তাঁরা। যদিও ককরোচ জনতা পার্টির তরফে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
