ফুটবল অঙ্গনে পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করা নিয়ে আলোচনা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এক হাজারের মাইলফলক ছোঁয়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় রোনালদোর প্রতিটি গোল নিয়ে সমর্থকদের উন্মাদনার শেষ নেই। তবে আলোচনার এই আড়ালেই যেন চুপচাপ একই স্বপ্নের ঠিকানায় ছুটছেন আরেক মহাতারকা লিওনেল মেসি!
তিনিও রোনালদোর থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির কোচ কিলি গন্সালেস বেশ জোর দিয়েই দাবি করেছেন, রোনালদোর মতো লিওনেল মেসিও অনায়াসে পৌঁছে যাবেন ক্যারিয়ারের এক হাজার গোলের সেই রূপকথার ক্লাবে।
মেসির এক হাজার গোল করা নিয়ে গন্সালেসই অবশ্য প্রথম ব্যক্তি নন। মাস কয়েক আগে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও একই পূর্বাভাস দিয়ে বলেছিলেন, এক হাজার গোল করা মেসির পক্ষে মোটেই অসম্ভব কিছু নয়। সম্প্রতি আমেরিকান মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মেসির জোড়া গোলের অনবদ্য প্রদর্শনীর পর বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া পাড়ায় আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আটলান্টার জমাট রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিয়ে চোখধাঁধানো ওই দুটি গোল করার পর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসির বর্তমান গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩৬টিতে। এক হাজার গোল ছোঁয়া থেকে তিনি এখন আর মাত্র ৬৪ গোল দূরে!
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যখন ইন্টার মায়ামি কোচের কাছে প্রশ্ন করা হয়—মেসির পক্ষে কি সত্যিই এক হাজার গোল করা সম্ভব? জবাবে কোনো দ্বিধা না রেখে গন্সালেস বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মন থেকে বিশ্বাস করি সে এক হাজার গোল নিশ্চিতভাবেই করবে। এ বিষয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কারণ ও (মেসি) এমন একজন ফুটবলার, যে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে। নিজের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন লক্ষ্য তৈরি করে সে। ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব শিরোপা ও অর্জন যার হাতের মুঠোয়, এক হাজার গোলের এই চ্যালেঞ্জটাও সে জয় করে দেখাবে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো মেসির বয়সটা অবশ্য ৩৯ পেরিয়ে গেছে। তবে মাঠে তার জাদু ও ক্ষিপ্রতা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, বয়সের পারদ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। চলতি এমএলএস মৌসুমে ইতোমধ্যেই ২৫টি গোল করে শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে আছেন মেসি।
শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে ১৫টি গোল করিয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের তালিকাতেও যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মায়ামি অধিনায়ক। প্রথম ফুটবলার হিসেবে এমএলএসে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্ট করার বিরল রেকর্ডও এখন তার ঝুলিতে।
ক্লাব ও দেশের হয়ে টানা ১৩ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্টে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সাফল্য। টানা তিন মৌসুমে এমএলএসের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়ার নতুন এক ইতিহাস গড়ার পথেই হাঁটছেন তিনি।
৩৯ বছর বয়সেও মেসির এমন পারফরম্যান্সে বিস্ময়ের সীমা নেই কোচ গন্সালেসের। প্রিয় শিষ্য ও মহাতারকাকে নিয়ে মায়ামি কোচ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘পুরো বিশ্বকে বারবার থমকে দিতে তার কোনো জুড়ি নেই। সত্যি বলতে ৩৯ বছর বয়সে একজন ফুটবলার কীভাবে এভাবে নিয়মিত পারফর্ম করে যেতে পারে, তা ভেবে আমি প্রতিটা মুহূর্তে অবাক হই। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, ও (মেসি) ফুটবলটা ভীষণ উপভোগ করছে এবং মায়ামিতে অনেক শান্তিতে আছে। সে শান্তিতে থাকলেই মাঠে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেয়।’
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেও ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চুক্তি রয়েছে মেসির। ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি কোচ—সবার একটাই চাওয়া, অবসরে যাওয়ার আগে হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন মেসি।
