কাজের অতিরিক্ত চাপ, একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব সামলানোর ক্লান্তি কিংবা নানা চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়া—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন অনেকেই। মানসিক চাপের মধ্যে কেউ কেউ অজান্তেই মাথার চুল টানতে থাকেন। আবার কেউ অস্থিরতা কমাতে বারবার মাথা ঝাঁকান বা চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করেন। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, নিয়মিত চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলার অভ্যাসের পেছনে থাকতে পারে বিশেষ এক মানসিক সমস্যা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যার নাম ‘ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া’ (Trichotillomania)। এটি এমন একটি মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা, যেখানে নিজের চুল টেনে তোলার তাগিদ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না কখন তিনি চুল টানছেন। আবার কেউ উদ্বেগ, মানসিক অস্বস্তি কিংবা একঘেয়েমি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এমন আচরণ করেন।
মানসিক চাপের সঙ্গে চুল টানার সম্পর্ক কী?
উদ্বেগ, হতাশা কিংবা তীব্র আবেগের মুহূর্তে কারও কারও চুল টানার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। চুল টানার আগে এক ধরনের অস্থিরতা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়। পরে চুল টেনে ফেললে সাময়িক স্বস্তি কিংবা তৃপ্তি আসে। এই স্বস্তির অনুভূতি থেকেই বারবার একই আচরণ করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
তবে চুল টানার অভ্যাসের পেছনে সব সময় মানসিক চাপই দায়ী নয়। ব্যক্তিভেদে এর কারণ ও ধরন আলাদা হতে পারে।
কোন পরিস্থিতিতে চুল টানার প্রবণতা বাড়ে?
অজান্তে চুল টানা: বই পড়া, টেলিভিশন দেখা কিংবা যানবাহনে বসে থাকার মতো সময়ে অনেকে অসচেতনভাবে চুল টানতে থাকেন। একঘেয়েমি বা কোনো কাজে গভীর মনোযোগ দেওয়ার সময় এই আচরণ ঘটতে পারে। কখন চুল টানছেন, তা অনেক সময় নিজেরও খেয়াল থাকে না।
আবেগ সামলাতে চুল টানা: ভয়, রাগ, হতাশা, উদ্বেগ কিংবা একাকিত্বের মতো অনুভূতি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে কেউ কেউ সচেতনভাবেই চুল টানেন। এতে কিছুক্ষণের জন্য মানসিক অস্বস্তি কমলেও ধীরে ধীরে আচরণটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
চুল টানার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে?
বারবার চুল টানার প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মাথার নির্দিষ্ট কিছু অংশে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে, এমনকি টাকও দেখা দিতে পারে। তাই অভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
এ ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ‘হ্যাবিট রিভার্সাল ট্রেনিং’ (Habit Reversal Training) নামে এক ধরনের আচরণভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে চুল টানার তাগিদ ও আচরণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং তার পরিবর্তে বিকল্প আচরণ গড়ে তোলার কৌশল শেখানো হয়।
চুল টানার প্রবণতা বারবার দেখা দিলে, তা বন্ধ করতে না পারলে কিংবা চুলের ক্ষতি হতে শুরু করলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক মূল্যায়ন ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।