
চান্দিনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: মামলার আসামি ৮ দিনেও গ্রেফতার হয়নি
সোহেল রানা
কুমিল্লার চান্দিনায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আট দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি মুয়াজ্জিন ছানাউল্লাহকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের শালিখা গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকার সচেতন ছাত্র ও যুব সমাজ।
‘শিশুর নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের দাবিতে ছাত্র ও যুব সমাজের মানববন্ধন’ শিরোনামে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে ব্যানার হাতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। এ সময় ব্যানারটিতে লেখা ছিল— ‘৮ বছরের শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার চাই’, ‘দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি’, এবং ‘নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি’। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ১ নং শুহিলপুর ইউনিয়নের শালিখা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. ছানাউল্লাহ (৬০) ওই গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও চা দোকানের ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি অভিযুক্ত ছানাউল্লাহর দোকানের সামনে গেলে তাকে বিস্কুট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর দোকানের ভেতর শিশুটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে শিশুটি পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়।
ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত ছানাউল্লাহ শিশুটির বাবার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বরকে বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। তবে ১২ অক্টোবর দুপুরে এক সালিশ বৈঠকে ছানাউল্লাহকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার সেই সালিশের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক মীমাংসা প্রত্যাখ্যান করে আইনের আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় মাতাব্বরদের একাংশ পরিবারটিকে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে।এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ আট দিন ধরে প্রধান আসামি পলাতক থাকায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। এঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে। মানববন্ধনের বিষয় আমার জানা নেই।
ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা জাতীয় রাজনীতি
