দ্রুত 'উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা' বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা’ গঠনের দাবিতে সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কেরানীহাট চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ।
সমাবেশে বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, কেঁওচিয়া ও খাগরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ বলেন, উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। সরকার ইতোমধ্যে উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ৬টি ইউনিয়নের মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজ করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাব। উত্তর সাতকানিয়ার মানুষের এ অর্জন ধরে রাখতে আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, মানুষের ওপর জুলুম করে কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তাহলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করলে, ব্যবসায়ী বা পরিবহন শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখালে কিংবা নিরীহ মানুষের ওপর প্রভাব খাটালে তাকে ধরে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখবেন। আমি রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের ওপর জুলুম করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়।
সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন ও দোহাজারী পৌরসভা নিয়ে 'দোহাজারী সাঙ্গু উপজেলা' বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসা দোহাজারীবাসীর উদ্দেশে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ বলেন, দোহাজারী পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপপ্রচার বা উসকানিতে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বটবাহিনী ও গুপ্তবাহিনীর প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। দোহাজারীর উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে আগুন লাগা সেই রিসোর্টের ম্যানেজার আটক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি তিনতলা ভবনটিতে দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার অভিযান চলাকালে রিসোর্টের সব কক্ষ তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিশ্চিত করতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও রিসোর্টটির নিরাপত্তা-ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
তারেকুর রহমান/নাঈম
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজন হারালেন চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নুর আলম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
এ ছবি এখন কেবল স্মৃতি। ছবি: সংগৃহীত
-->কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন চাকরির সুবাদে চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নুর আলম। আনন্দময় সময় কাটাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে যাওয়া সেই ভ্রমণই তাঁর জীবনে নিয়ে এসেছে ভয়াবহ শোক।
নুর আলম বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।
মুঠোফোনে নুর আলম জানান, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিহা কবির, সাত বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।
শনিবার তাঁদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর স্ত্রী, সন্তান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালক মারা যাওয়ার খবর পান তিনি। খবর পেয়েই তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
নুর আলম বলেন, “আজ তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”
নুর আলমের একমাত্র ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ (৭) চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যে বাসায় আট বছর ধরে সংসার করছিলেন নুর আলম, তাঁদের অনুপস্থিতিতে সেই বাসা এখন নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, “নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে আমার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাঁরা খুবই ভালো মানুষ। ঘটনা শোনার পর তিনি ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
শনিবার কক্সবাজার থেকে পরিবারের সদস্যদের চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের ফেরার অপেক্ষার বদলে দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার ভাড়া বাসায় এখন ঝুলছে তালা। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নুর আলম।
মিজানুর রহমান/এসএন
আরও পড়ুন
সোনারগাঁয় ৮ দিনব্যাপী লালন কারুমেলা শুরু
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে শুরু হয়েছে আট দিনব্যাপী লালন কারু মেলা। ছবি: খবরের কাগজ
-->নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে আট দিনব্যাপী লালন কারু মেলা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এ মেলার আয়োজন করে।
ফাউন্ডেশনের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এ কারু মেলায় ১৫ জন কারুশিল্পী তাদের হাতের তৈরি কারুপণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছেন।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
মেলায় ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা, কাঠের চিত্রিত হাতি, ঘোড়া ও পুতুল, দারুশিল্প, হাতপাখা, বেতশিল্প, মাটির গহনা, ঝিনুক শিল্প, শতরঞ্জি, মনিপুরী তাঁত শিল্প, কুমিল্লার খাদি শিল্প, একতারা শিল্প ও তাঁতবস্ত্র শিল্পসহ মোট ১৫জন কারুশিল্পী তাদের নিজস্ব তৈরি পণ্য সামগ্রী নিয়ে অংশ নিয়েছেন। ফাউন্ডেশনে আগত দর্শনার্থীরা মেলায় কারুপণ্য তৈরি প্রক্রিয়া সরাসরি দেখার পাশাপাশি এখান থেকে পছন্দের কারুপণ্য কিনে নিয়ে যেতে পারবেন।
লালন কারুমেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন, পুনরুজ্জীবন ও কারুশিল্পীদের উন্নয়ন কল্পে এ মেলার আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম জানান, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার জন্য এ মেলার আয়োজন। একসময় বটমূল, নদীর তীর বা নির্দিষ্ট স্থানে গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠানোর জন্য মেলার আয়োজন করা হতো। এখন আর সেই মেলা দেখা যায় না। তাই আয়োজিত এ মেলার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্ম চিনবে ও জানবে। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিবছর মাসব্যাপী মেলার পাশাপাশি বিভিন্ন দিবসে কারুপণ্য মেলার আয়োজন করে।
ইমরান/নাঈম
আরও পড়ুন
গাজীপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত 'দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড'-এর একটি কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বিকেল ৪টার পর কারখানার ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম।
তিনি জানান, বিকেল ৪টা ২২ মিনিটের দিকে সফিপুর এলাকায় অবস্থিত ওই ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানার স্টোরে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ৪টা ৩৪ মিনিটে প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের ব্যাপ্তি বিবেচনা করে পরবর্তীতে কোনাবাড়ী থেকে দুটি এবং গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার সার্ভিস থেকে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত হয়। মোট ৬টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।
মো.পলাশ/এএফ
