ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মিছিলে যুক্ত হন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে আয়োজিত এই মিছিলে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশেই দেখা গেছে একঝাঁক তরুণ মুখ।
বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রনেতাদের সামনে এনে মূলত আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইছেন বিরোধীরা।
বিজ্ঞাপন
আগে রাহুলের মিছিলে মূলত কংগ্রেসের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যেত। তবে সোমবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্রনেতাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।
একই মঞ্চে কংগ্রেস ও বাম ছাত্রসংগঠনের নেতারা
সোমবার তেরঙা পতাকায় সাজানো একটি খোলা ট্রাকে উঠে মিছিলের নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও।
বিজ্ঞাপন
ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষের পাশে ছিলেন কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআইয়ের নেত্রী জান্নাত বিষ্ণোই। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাহী পরিষদের সদস্য।
এছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাও ট্রাকে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির নেতা ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি এন সাই বালাজি।
সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাদের নেতাদের সামনে আনা হয়েছে। এতে আন্দোলনকারীদের ঐক্যের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের পরিধি বাড়াতে কংগ্রেসের কৌশল
কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, ছাত্রনেতাদের মিছিলে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি পরিকল্পিত। এর মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিরোধীদের সমর্থনভিত্তি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছেন বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোট চুরির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
মিছিলে ছাত্রনেতাদের সামনে রাখার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কংগ্রেসের আরেক নেতা। তার মতে, এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টাও থাকতে পারে।
কংগ্রেস শুরু থেকেই সংগঠনটিকে আম আদমি পার্টির (আপ) ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে সন্দেহের চোখে দেখে আসছে। কারণ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অতীতে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন।
রাহুলের পাশে ছাত্রনেত্রী, আলোচনায় ছবি
মিছিলে এনএসইউআই নেত্রী জান্নাত বিষ্ণোইকে সামনে রেখে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা কিছুটা পেছনে সরে যান।
পরে প্রিয়াঙ্কা ও নেহা বোরাকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা যায়। তাদের পেছনেই ছিলেন রাহুল গান্ধী।
এই দৃশ্যগুলো বিরোধী শিবিরে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে আড়ালে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এক নেতা।
গত জুলাইয়ে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল সিজেপি। ওই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়। সেই আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব কংগ্রেস নেতৃত্ব ছাত্রদেরই দিয়েছিল।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেএএ/
