এই ৬ বইয়ের যে কোনও একটি হাতে নিন। তার পর দেখুন, রাত কী ভাবে কেটে যায়।

৬ বইছবি : এআই
রোমাঞ্চ কখনও পুরোনো হয় না। হোক সে সুদূর চরের মোহময় অরণ্য, গভীর রাতের লকডাউনের রাস্তা, কিংবা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া দিন। এই ৬টি বইয়ের যে কোনও একটি হাতে নিন। তার পর দেখুন, রাত কী ভাবে কেটে যায়।
ডায়াসপোরা ব্লুস — মাসুদুল হকছবি : সংগৃহীত।
জীবন সরলরেখায় চলে না। এহসান উপলব্ধি করে সে আটকে পড়েছে এক বহুমাত্রিক ধাঁধায়। ঢাকার খিলখেত আর সমুদ্রপাড়ের উজানতলী — দু’জায়গায় তার অবস্থান আলাদা দু’টি উদ্দেশ্যে। কিন্তু কেন অরোরাল্যান্ডের আকাশে তিনটি সূর্য? ইংল্যান্ডের ১৭ বছরের তরুণীটি কেনই বা পালিয়ে বেড়াচ্ছে? আর বিস্তৃত ধানখেতে এক ভালুক কেন মৌচাক রেখে তাকে বধ করার সংকল্প নিয়েছে? এ সব প্রশ্নের সমাধানের জন্য ও দ্বারস্থ হয় মনোজগতের গলিঘুপচি চেনা এক প্রবীণ প্রজ্ঞাবানের কাছে, যিনি পথের সন্ধান বাৎলে দিলেও বিপজ্জনক দরজাগুলো খুলতে হবে এহসানকেই। ডায়াসপোরা ব্লুস এক তরুণের দ্বিধা, ঔচিত্যবোধ, প্রতিশোধ, বিসর্জন ও অর্জনকে সমন্বয় করে নিজেকে আবিষ্কারের এক অভূতপূর্ব যাত্রা।
আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক — ইমতিয়ার শামীমছবি : সংগৃহীত।
‘আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিকের’ একদম শেষ দিকে লেখা হয়েছে: ‘আরও একটু পর আমরা জানতে পারি, ক্রসফায়ারে একজন মারা গিয়েছে। কেননা ক্রসফায়ারই গন্তব্য আমাদের সকলের। আমি বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিন্তা করি, আরও এক বড়ভাই মারা গেল হয়তো। হয়তো আরও একটি রূপকথা লেখা হলো। কেননা চিঠিযুগ শেষ হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই, থেমে গিয়েছে কুউউ ঝিকঝিক।’ আর উপন্যাস শুরু হয়েছে ‘শেষ ট্রেন চলে যাওয়ার পরও আমি বসে থাকি স্টেশনের উল্টো দিকে দু’মুখ খোলা সিমেন্টলোহার বড় বড় পাইপগুলোর উপর। একটু শীত-শীত লাগছে এখন। জামাটা ভালো করে টেনেটুনে আরও জড়সড় হয়ে বসে শীত কমানোর চেষ্টা চালাই আর মনে মনে চিন্তা করি, বড়ভাইকে নিশ্চয়ই আর্মিরা খুব মার দিচ্ছে।’ এর মাঝখানে গোটা উপন্যাসে ধরা আছে সামরিকশাসনধ্বস্ত বাংলাদেশ-যাপিত সেই ইতিহাস ইমতিয়ার শামীম আমাদের সামনে মেলে ধরলেন তাঁর শক্ত কলমে।
আখতারুজ্জামান একটু চা খেতে চান — ওয়াসি আহমেদছবি : সংগৃহীত।
কোভিড মহামারী এড়াতে শহরজুড়ে লকডাউন। মাঝরাতে এক কাপ চায়ের খোঁজে রাস্তায় হাঁটছেন আখতারুজ্জামান। রাস্তার আলো ফুরিয়ে আসতে শুরু করেছে প্রায়, গুমোট হয়ে আছে চারপাশ। কতক্ষণ হেঁটেছেন খেয়াল নেই। হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস পিছন থেকে জোরে ব্রেক কষতেই তার সম্বিত ফিরল। ভয়ে জমে গেলেন আখতারুজ্জামান। আরেকটু হলেই মাইক্রোসার চাকার নীচে পড়তেন। অন্ধকার রাস্তায় হেডলাইট নিভিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে কোন বেআক্কেল? একটু ধাতস্থ হয়ে চিৎকার করে উঠলেন তিনি। মাইক্রোবাসের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। ভিতরে গান বাজছে, অন্ধকার সুনশান রাস্তায় একমাত্র শব্দের উৎস — ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায় একি বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু...’ ড্রাইভারের দরজা খুলে যাওয়ার পর অন্ধকারে কেউ কারও মুখ দেখতে পাচ্ছে না। সেই অবস্থাতেই আখতারুজ্জামানের কাঁধে হাত রাখল লোকটা, কানের কাছে মুখ এগিয়ে আনল সন্তর্পণে। তার পরে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো: ‘আখতারুজ্জামান, আপনি কি একটু চা খেতে চান?’
দরিয়া-ই-নুর — মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনছবি : সংগৃহীত।
দীর্ঘদিন পর জেল থেকে মুক্তি পায় মির্জা আশেক। নতুন করে জীবনটা শুরু করার আগে আবারও পা বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে। শেষ একটি দান মারতে চায় সে। এ বার তার পরিকল্পনা যেমন নিখুঁত তেমনি অভিনব। সামান্য ভুল হলে তলিয়ে যেতে পারে তার জীবনটা, সেই সঙ্গে আরও কিছু মানুষেরও! এ সবই কি মহামূল্যবান হীরকখণ্ড দরিয়া-ই-নুরের হাতছানি? নাকি অন্য কিছু?
বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি — তানজীম রহমানছবি : সংগৃহীত।
এ গল্পে বৃষ্টি আছে এবং ভূত আছে। একজন রিকশাচালক আছেন যার রিকশায় চড়ে মৃতদের আত্মারা অন্তিম গন্তব্যে যাত্রা করে। একজন ব্যবসায়ী আছেন যিনি বিশ্বজয় করতে চান। একজন অধ্যাপক আছেন যিনি বেঁচে থাকার মূল উদ্দেশ্য জানেন। এ গল্পে আছে খুন আর রহস্য আর মৃত্যু আর বিষাদ।
চন্দ্র চন্দ্র খুঁজে ফিরি — শাহরিয়ার জাওয়াদছবি : সংগৃহীত।
চরের নাম কেন্দুখালি। তার চারদিক ঘিরে বয়ে চলেছে গড়খালী নদী। সে নদীর দুই তীরে ঘন জঙ্গল। বিস্তৃত বনভূমির আকাশে ঝুলে থাকা পূর্ণিমার চাঁদের আলো গলে গলে পড়ছে যেন — চর, নদী আর নদী-তীরে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষরাজির উপর। মৃদু হাওয়া দিচ্ছে। সে হাওয়ায় মিশে আছে কেমন এক ধরণের আদিম সুবাস। এই সুবাস বনভূমির একান্ত নিজের। ভয় ধরানো। আবার, ভীষণ মোহময়। একবার যে এই মোহে আটকাবে, সে এই জল-জঙ্গল ছেড়ে আর কোথাও থিতু হতে পারবে না। অশরীরী কোনো সত্তা যেন তাকে চুপিসারে ডাকবে। আহ্বান করবে। অরণ্যের এই ডাক উপেক্ষা করা সাধ্যতীত।
