অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপ করা ভর্তুকিবিরোধী শুল্ক বা কাউন্টারভেলিং ডিউটির সিদ্ধান্ত মোকাবিলায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনা করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই আনুষ্ঠানিক মতামত পাঠিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুনির্দিষ্ট আইনি সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিটিসি। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারে এই নতুন শুল্কের খড়্গ নেমে আসায় দেশীয় পাটশিল্প বড় ধরনের বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারবিষয়ক অধিদপ্তর সম্প্রতি এই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশটির কাস্টমস ট্যারিফ আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। মূলত ভারতীয় জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টোয়াইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। এর আওতায় পাটের সুতা, টুইন, স্যাকিং এবং হেসিয়ান ব্যাগসহ বিভিন্ন কাপড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকারকরা দুটি বিশেষ সরকারি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা পেয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত রপ্তানির নগদ প্রণোদনা এবং পাটশিল্পের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আয়কর ছাড়ের সুবিধা। সাধারণ করপোরেট করহারের তুলনায় এই বিশেষ কর সুবিধা এবং রপ্তানি প্রণোদনাকে নিষিদ্ধ ভর্তুকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। যদিও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের সুবিধা ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ভর্তুকির প্রমাণ পায়নি তারা।
এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পাঁচটি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর পাঁচ বছর মেয়াদি কাউন্টারভেলিং ডিউটি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে প্রতি টন পণ্যে ১০১ থেকে ১৪০ ডলার পর্যন্ত শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে। নতুন এই শুল্কের ক্ষেত্রে দ্বৈত শুল্কের প্রভাব এড়াতে কিছু সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও তা রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধা এবং দ্বৈত শুল্কের আশঙ্কার মতো যুক্তিগুলো তুলে ধরেছিল। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রায় সব আপত্তিই খারিজ করে দিয়েছে এবং নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে নমুনা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিটিটিসির এই আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ আমলে নিয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
