দেশে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে চর উৎসব।
গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সমবায় ও সামাজিক সংগঠন সমধারার আয়োজনে উৎসবের ইভেন্ট পার্টনার ছিল সিরাজগঞ্জের পর্যটন উদ্যোগ স্মার্ট ট্যুরিজম। শহরের বহু পরিবারসহ শিশুরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন এ আয়োজনে।
বাংলাদেশের পর্যটনে নদীকেন্দ্রিক ভ্রমণের সম্ভাবনা, বিশেষ করে যমুনা নদীতে নৌভ্রমণ, নদীর বুকে জেগে ওঠা চর, বিস্তীর্ণ বালুচর এবং চরের মানুষের জীবনযাত্রা পর্যটকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। এসব সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং চরাঞ্চলকে ভিলেজ ট্যুরিজমের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করার ভাবনা থেকেই চর উৎসবের আয়োজন করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।
চরের প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবনযাত্রা, লোকসংস্কৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় উৎসবের আয়োজন। আকাশে ওড়ানো হয় নানা রঙের ঘুড়ি। সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয় সিরাজগঞ্জের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য গামছা। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে সাজসজ্জার বিভিন্ন অনুষঙ্গে ছিল চরের গ্রামীণ জনপদের নিজস্বতা ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অতিথিদের কলাপাতায় পরিবেশন করা হয় সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাবার পিটুলি।
সমধারার সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল সাফি বলেন, ‘চরের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। চর উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা চরের সম্ভাবনাকে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি। চরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় খাবার, সাজসজ্জা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজনটি করা হয়েছে, যাতে শহরের মানুষ বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম চরের জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।’
স্মার্ট ট্যুরিজমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ তথা চরাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে এ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। দেশের পর্যটনের নতুন ঠিকানা হিসেবে চরাঞ্চলকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে চর উৎসব একটি নতুন সংযোজন হবে। সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের আরও আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ভিলেজ ট্যুরিজমকে এগিয়ে নিতে চাই।’
