রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি বা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আবদুর রহমান। সম্প্রতি তিনি দলটির সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। তার এই পদত্যাগের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নীতিগত বিভেদ এই পদত্যাগের মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবদুর রহমান অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের দলের রাজনৈতিক সখ্য এখন আর সাধারণ জোটে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে একটি সম্পূর্ণ আদর্শিক একাকার প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে, যা মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যে চেতনা ও আদর্শ নিয়ে এই দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমান কর্মকাণ্ড তার থেকে অনেকটাই বিচ্যুত হয়েছে। দলটির এমন আদর্শিক অবস্থান পরিবর্তন মেনে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আবদুর রহমানের এই পদত্যাগের পর দলের ভেতরকার অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এনসিপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা অবশ্য এই অভিযোগের সরাসরি কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে তারা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। দলটির একটি অংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কিছু আদর্শিক সমঝোতা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে দলের ভেতর এমন বিভক্তি আগামী দিনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দলের জোট গঠন ও ভাঙনের খেলা চলছে অবিরাম। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। আবদুর রহমানের মতো একজন কেন্দ্রীয় নেতার দলত্যাগ সেই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলল। আগামী দিনে তিনি নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেন নাকি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পথ চলেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
