Published on
:
2 min read
এই সময়, বালুরঘাট: সে বছরই বাংলাদেশ বলে একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তার আগে অবশ্য রক্তস্রোত বয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ভারতও। একাত্তরের সেই স্মৃতি আজও বহন করছে পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট। সে বছর পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগারে এসে পড়েছিল বিস্ফোরণ না-হওয়া একটি গোলা (শেল)। এরপরে আত্রেয়ী নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। শেলটি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ও ভাবেই পড়ে ছিল। অবশেষে শনিবার সেটিকে নিষ্ক্রিয় করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় এ দিন বালুরঘাট শহর লাগোয়া পাগলিগঞ্জে আত্রেয়ীর চরে শেলটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭১–এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। যুদ্ধের পরে সেই সময়কার নানা সামরিক সরঞ্জাম থেকে যায় বালুরঘাটেই। তারই মধ্যে ছিল ওই অবিস্ফোরিত গোলাটি। এতদিন সেটি পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগারে সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি গোলাটি নজরে আসতেই সেটিকে নিষ্ক্রিয় করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয় জেলা পুলিশ। তার পরেই সেনার অপারেশন উইংয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল আসে শেলটি খতিয়ে দেখতে। দলটি গোলা পর্যবেক্ষণের পরেই নিরাপত্তাবিধি মেনে আত্রেয়ীর চরে সেটিকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। উর্দিধারীদের মতে, এর ফলে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগারে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ওই শেলটিকে ঘিরে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা দূর হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা বলেন, '৫০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা ওই গোলাটি নিয়ে নিরাপত্তার আশঙ্কা ছিল। সেটিকে নিরাপদে নিয়ে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।'
উল্লেখ্য, শুধু এই শেলটি নয়, একাত্তরের যুদ্ধের বহু স্মৃতি বহন করে চলেছে বালুরঘাট। সেই সময়ে ব্যবহৃত একটি ট্যাঙ্ক রঘুনাথপুর এলাকায় আজও রয়েছে। ট্যাঙ্কটি পূর্ব পাকিস্তান থেকে যুদ্ধের সময়ে বালুরঘাটে এসেছিল। সেটি যুদ্ধের পরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দখলে আসে। এমনকী, শহরের চকভবানী এলাকায় একটি ফাটানো শেলের অংশও রাখা আছে৷
