হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ১ হাজার ২০১ জনের মৃত্যু হলো। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় এক হাজার ৩০৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে এক হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৫১ জন, চট্টগ্রামে ২৭৬, সিলেটে ১৩২, বরিশালে ১২০, খুলনায় ৭৩, ময়মনসিংহ ৬৯, রাজশাহীতে ৪৪ ও রংপুরে ১৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয় ১০৪ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৯৭ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৪৯৩ জনের। এ ছাড়া সিলেটে ১৯৩, চট্টগ্রামে ১০১, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৪, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ এবং রংপুরে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৫৭ জনের। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আর তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীদের সবার হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষা তথ্য দিয়ে এ রোগের বিস্তারের সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
