খুলনার ইনিংসে তখন ৭০ ওভার শেষ। শেষ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে লড়াইয়ে আজিজুল হাকিম, সামনে সেঞ্চুরির হাতছানি। নতুন ওভারে বোলিংয়ে মোহাম্মদ রুবেল। তবে রানআপের শুরুতে এই রহস্য স্পিনারকে থামিয়ে দিলেন ইরফান শুক্কুর। পরে আম্পায়ারের দিকে কিছু একটা ইশারা করলেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। একটু পরই মাঠে এলেন চতুর্থ আম্পায়ার। তার হাতে তখন চকচকে নতুন বল। রুবেল ফিরিয়ে দিলেন পুরনো বল। চকচকে লাল নতুন বলে বোলিং শুরু করলেন পেসার আহমেদ শরিফ।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচটিতে বল বদলের এই ঘটনা খটকা লাগার মতোই! লাল বলের ক্রিকেটে সাধারণত ৮০ ওভার পর নতুন বল নেওয়া যায়। তবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে খুলনা-চট্টগ্রাম ম্যাচের মতো এই রাউন্ডের সব ম্যাচেই ৭০ ওভার পরই দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে দলগুলি। ব্যাটে-বলে প্রতিযোগিতায় কিছুটা ভারসাম্য আনতেই মূলত টুর্নামেন্টের মাঝপথে দ্বিতীয় নতুন বলের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে বিসিবি।
নতুন নিয়মে জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড থেকে সব দলই নতুন বল নিতে পারবে ৭০ ওভার শেষেই।
বল নিয়ে এবারের জাতীয় লিগ শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি। গত কয়েক বছরে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডিউক বল দিয়ে খেলা হলেও, তুলনামূলক খাড়া সিম ও শক্ত ঘরানার সেই বলের বদলে এবারের মৌসুমে কুকাবুরা বলে ফেরার কথা জানায় টুর্নামেন্ট কমিটি।
উইকেটে বাধ্যতামূলক ৬ মিলিমিটার ঘাস তো রাখতে হতোই। সেসব উইকেটে খাড়া সিমের ডিউক বলের সামনে গত কয়েক বছর জাতীয় লিগে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। প্রায় সব মাঠ ও কন্ডিশনে ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা। তাই ব্যাট-বলের ভারসাম্য ফেরাতে ও ব্যাটসম্যানদের বড় রানের অভ্যাস গড়ে তুলতে ডিউকের বদলে ফেরানো হয়েছে কুকাবুরা বল।
সেটির প্রভাব প্রথম দুই রাউন্ডে দেখা গেছে ভালোভাবেই। দুই রাউন্ডে সেঞ্চুরি হয়েছে মোট ১৫টি। ফিফটির সংখ্যা ছিল আরও অনেক বেশি।
ব্যাটসম্যানদের সেই দাপটের প্রভাব পড়েছে ম্যাচের ফলাফলেও। প্রথম দুই রাউন্ডে আট ম্যাচের মধ্যে ড্র হয়েছে ছয়টি। জয়-পরাজয় এসেছে কেবল টুর্নামেন্টের তুলনামূলক দুর্বল দল বরিশালের দুই ম্যাচে। অথচ গত মৌসুমের লিগে পুরো সাত রাউন্ড মিলিয়ে ২৮ ম্যাচের মধ্যে ড্র হয়েছিল মোট ১২টি ম্যাচ।
অবস্থা বুঝে তাই ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি। টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু এনাম মোহাম্মদ কায়সার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বোলারদের সুযোগ কিছুটা বাড়ানোর জন্যই এই নিয়ম।
“তৃতীয় রাউন্ড শুরুর আগে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যাটে-বলে প্রতিযোগিতা কিছুটা বাড়ানোর জন্য মূলত এটি করা। এর ফলে তরুণ পেসাররা একটু আগেভাগে আরেকটি নতুন বলের সুবিধা পাবে। ব্যাটসম্যানদেরও এই চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে।”
কায়সার জানালেন, ডিউকের সঙ্গে কুকাবুরার আচরণের পার্থক্যও ছিল এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাবক।
“আপনারা জানেন, ডিউক বলের আচরণ একরকম, কুকাবুরার আবার ভিন্ন। কুকাবুরা তুলনামূলক দ্রুত পুরনো হয়ে যায়। তাই বোলাররা যেন নতুন উদ্যমে আবার শুরু করতে পারে, ব্যাট-বলের লড়াইটা যেন আরও বাড়ে, সব কিছু মিলিয়েই নতুন নিয়ম।”
তৃতীয় রাউন্ড থেকে আরেকটি নিয়মেরও পরিবর্তন এসেছে জাতীয় লিগে। এই রাউন্ড থেকে প্রয়োজন হলেও কোনো ম্যাচে ফ্লাড লাইট ব্যবহার করা যাবে না। প্রথম দুই রাউন্ডে মিরপুর, সিলেট, চট্টগ্রামসহ যেসব ভেন্যুতে কৃত্রিম আলোর সুবিধা ছিল, সেসব জায়গায় তা ব্যবহার করে নির্ধারিত ওভার শেষ করা হয়েছে।
তবে বাকি পাঁচ রাউন্ডে প্রাকৃতিক আলো কমে এলে আর ফ্লাডলাইট না জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার জানান, সারা দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের যে সরকারি কর্মসূচি, সেটির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই বোর্ডের এমন সিদ্ধান্ত।
