মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে সন্তুষ্ট নন এবং তিনি তার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের ছেলে—যিনি প্রায়শই ‘ডন জুনিয়র’ নামে পরিচিত—চেয়েছিলেন যেন তার বাবা মধ্যপ্রাচ্যে আরো একটি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে না ফেলেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডন জুনিয়র ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের কাছে বারবার ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বৈদেশিক বিষয়ে জড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং মনে করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।
ট্রাম্পের ছেলে প্রয়াত রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যিনি নিজেও যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন।
একটি সূত্র প্রকাশনাটিকে জানিয়েছে, “ডন এই বিষয়ে তার মতামত ব্যক্তিগতই রেখেছেন, কারণ তিনি কখনোই জনসমক্ষে তার বাবার অবস্থানের বিরোধিতা করবেন না। তবে যারা ডনকে চেনেন, তাদের কাছে এই বিষয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত মোটেও আশ্চর্যজনক নয়।”
ইরান যুদ্ধ ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) শিবিরের ভেতরে ক্রমবর্ধমান ফাটলকে সামনে নিয়ে এসেছে। যারা যুদ্ধপন্থী , তারা মনে করেন যে, বিদেশের যুদ্ধে জড়ানো মানে দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা।
একটি সূত্র প্রকাশনাটিকে বলেছে, “সবার মধ্যে ডন জুনিয়রই সবচেয়ে কট্টর ‘মাগা’ সমর্থক।”
এমনকি প্রশাসনের ভেতরেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার সময় ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো ব্যক্তিরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকের প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা আদৌ সম্ভব কি না।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান ইরান সংঘাতের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন করেন না, যেখানে ৩৩ শতাংশ মানুষ একে সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপটি জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান নিয়ে গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে।
রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থনের হার মার্চ মাসের ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৬৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এদিকে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান মনে করছেন যে, এই সংঘাত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে—যা প্রশাসনের প্রাথমিক চার থেকে ছয় সপ্তাহের অনুমানের চেয়ে অনেক দীর্ঘ।
