খুলনা গেজেট অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে মধ্যরাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাকিয়া হককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক শ্রমিক দল নেতার লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ডা. সাকিয়া হক। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত রবিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
এদিকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের ওপর চড়াও হওয়া ও গালাগালির অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, রোগীদের অধিকার এবং সেবার পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
চিকিৎসক সাকিয়া হক বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার। হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, ওই রোগীর নাম শানু।
সাকিয়া হক বলেন, গত রবিবার দুপুর আড়াইটা থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আমার ডিউটি ছিল। ওই সময়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে আমিই একমাত্র চিকিৎসক ছিলাম। রাত ১২টার দিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে এক রোগী হাসপাতালে আসেন। প্রথমে তার ইসিজি (ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম) করা হয়। পরীক্ষা ও রক্তচাপসহ অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিকভাবে হৃদ্যন্ত্রের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। পরে গ্যাসের সমস্যার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে গিয়ে প্রথমবার ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসক। দ্বিতীয়বারও একজন ওয়ার্ড বয় চেষ্টা করেন। এতে রোগীর স্বজনরা মারমুখী হয়ে আমার কক্ষে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করেন এবং বারবার মারতে তেড়ে আসেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে এটা নতুন নয়। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কোনো হাসপাতালেই এই পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না।
খুলনা গেজেট/এএজে
