আন্তর্জাতিক ব্যুরো:
আগামী মাসে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোররাতে ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২১০টি ড্রোন দিয়ে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার ওয়ারহেড (গুচ্ছবোমা) ব্যবহার করেও আক্রমণ চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার এই তান্ডবে কমপক্ষে ২ জন নিহত এবং ৩৪ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক উদ্যোগ ও ট্রাম্পের বক্তব্য
উইটকফ-পুতিন বৈঠক: বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তিনি ১০ নভেম্বরের পর ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি আছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও বিস্ফোরণ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেন যে, তাঁর প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় কিয়েভে প্রথম বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: ইউক্রেনকে দ্রুত সমঝোতায় আসার চাপ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটির জন্য “খুব খারাপ কিছু” অপেক্ষা করতে পারে।
অসলো বৈঠক ও ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের একদিন আগে নরওয়ের অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ও ন্যাটো প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন দূত উইটকফ। সেখানে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন নিয়ে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, অসলো আলোচনার কিছু বিষয় রাশিয়ার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে জেলেনস্কি পুতিন ও ট্রাম্পের সাথে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পক্ষে থাকলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে, যেকোনো শীর্ষ বৈঠকের আগে বিস্তারিত প্রস্তুতি প্রয়োজন।
এ জাতীয় আরো খবর..
