ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ বাড়াতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানান।মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসসহ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানো, অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
আগামী গ্রীষ্মের পূর্বে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ইতিমধ্যে সব সরকারি/আধাসরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত/স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান/সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অর্থাৎ অপারেশনাল এক্সিপেন্ডিচার (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সেইসাথে, যে সকল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় আছে, তাদের ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সিপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ওপেক্স মডেলে স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রাহক কর্তৃক দীর্ঘ (১৫ বছর) মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের শেয়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান নেই।
সেইসাথে, ক্যাপক্সে মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি-বিধান না থাকায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রিসভায় খসড়া অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।