কোটালীপাড়ায় ব্যস্ত সড়কের দুই পাশে বসে বাজার। মাছ, সবজি, হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। ক্রেতাদের ভিড় আর যানবাহনের চাপে সংকুচিত হয়ে পড়ে সড়ক। তৈরি হয় যানজট, বাড়ে জনদুর্ভোগ। সদরের জিরো পয়েন্টের পশ্চিমপাড়ে প্রতিদিনের এ চিত্র যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দখলমুক্ত করে জনভোগান্তি কমাতে স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা যায়, কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কের পৌরসভার পশ্চিমপাড়া এলাকায় সড়কের দুই পাশে বসে জমজমাট বাজার। মাছ, সবজি, হাঁস-মুরগি ও মুদি পণ্যের দোকান ঘিরে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি সড়ক দিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে তৈরি হচ্ছে জটলা। পথচারীদেরও বাজারের ভেতর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর শুরু হওয়া এই বাজার চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন মাছ, সবজি ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে এখানে আসেন। সকালে টাটকা পণ্য কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারাও। বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিদিন এই বাজারে ৮-১০ লাখ টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। তবে বেচাকেনার এই কর্মচাঞ্চল্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট ও মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। কর্মজীবী তামান্না খানম বলেন, সকালে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বাজারের কারণে যানবাহন ও মানুষের ভিড় এক সঙ্গে হয়ে যায়। বাজারের জন্য সড়ক ছেড়ে কাছাকাছি কোথাও আলাদা জায়গা করা জরুরি।’
ক্রেতা সজীব জয়ধর বলেন, এখানে সকালে প্রয়োজনীয় সবধরনের টাটকা পণ্য পাওয়া যায়। তবে রাস্তার ওপর বাজার বসায় চলাচলে সমস্যা হয়। নির্দিষ্ট জায়গায় বাজার বসালে ক্রেতাদের সুবিধা হবে, মানুষের ভোগান্তিও কমবে। মাছ বিক্রেতা সমরেশ ম-ল বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। কাছাকাছি সুবিধাজনক ও নিরাপদ জায়গা করে দিলে সেখানে বাজার স্থানান্তরে আমাদের আপত্তি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনের এই ভোগান্তি সত্ত্বেও সড়কের ওপর বাজার বসা বন্ধে এখনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সকালে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের যানজট ঠেলে চলাচল করতে হচ্ছে। একদিকে ব্যবসায়ীদের জীবিকা, অন্যদিকে জনসাধারণের নির্বিঘœ চলাচলÑ দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিকল্প স্থানে বাজার স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, ‘সড়কের ওপর বাজার বসায় সড়কটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাজারটি বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
