খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। তবে এই নির্বাচনী হাওয়া যতটা না বিরোধী দলগুলোর কারণে, তার চেয়েও বেশি দৃশ্যমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অন্দরের গৃহদাহে। দলের দুই প্রভাবশালী নেতা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও বর্তমান সভাপতি কেডিএর চেয়ারম্যান এডভোকেট এস এম শফিকুল ইসলাম মনার মধ্যকার পুরোনো ও অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর ফলে স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে খুলনা বিএনপি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বারবার উদ্যোগ নিয়েও এই কোন্দল নিরসন করা সম্ভব হয় নি। আর বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুবাদে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানকে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে তারা গোছানো প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।
৩১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনের পরিধি খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, আড়ংঘাটা ও খানজাহান আলী থানার আংশিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কেসিসিতে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯০৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৭ জন।
১৯৮৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কেসিসি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সরাসরি মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট শেখ তৈয়বুর রহমান প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। তিনি ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে বিএনপির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০১৮ সালে আবারও তালুকদার আব্দুল খালেক মেয়র হন। ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।
কেসিসির সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যান। পরে অন্তর্বর্তী সরকার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কেসিসি পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাবেক সংসদ-সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক পদে বসানো হয়। খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে একক প্রভাব বজায় রেখে চলেছেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরীর সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তার সঙ্গে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি। অন্যদিকে, বর্তমান মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনা এবং শফিকুল আলম তুহীনেরও রয়েছে শক্তিশালী কর্মী-সমর্থক বাহিনী।
গত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মঞ্জু দলে সক্রিয় হলে এই বিভাজন ফের প্রকাশ্যে চলে আসে। মাঝে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল দু’পক্ষকে এক করার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে কেসিসির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে পরাজিত হন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কারণেই মূলত ওই পরাজয় ঘটেছিল বলে মনে করেন তারই অনুসারীরা। এবার কেসিসি নির্বাচনেও তিনি মেয়রের জোরালো দাবিদার বলে তার অনুসারীরা জানিয়েছেন।
তবে তার পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম জহির, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর ও খুলনা সদর থানা বিএনপি সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর। সর্বশেষ কেসিসির বাজেট মিটিংয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতি এই দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এমনকি মঞ্জু যে সব অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন অধিকাংশ অনুষ্ঠানে মনা-তুহিন এবং তাদের অনুসারীরা উপস্থিত থাকেন না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি ইমরান হোসাইন বলেন, ‘দলের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন না। সংগঠন যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি। বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা এবং খুলনাবাসীর চাহিদার আলোকে নতুন নতুন কৌশল নিয়ে ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিগত কেন্দ্রীয় শুরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত আমরা কোনো জোট বা সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। এককভাবেই নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি ও (এনসিপি) কেসিসি নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খুলনা মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আহম্মদ হামীম রাহাত বলেন, ‘এখনো চূড়ান্তভাবে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই ও তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে।’ তিনি বলেন, ‘কমিটি গঠনের কারণে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি ছিল, তা এখন আর থাকবে না। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খুলনার কাক্সিক্ষত মেয়র প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিতে পারব।’
জামায়াতের সুসংগঠিত কৌশল ও একক প্রার্থী
বিএনপির এই ঘরোয়া কোন্দল এবং গ্রুপিংয়ের পূর্ণ ফায়দা তুলতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কেসিসির মেয়র পদটি দখলকে মূল টার্গেট করে মাঠে নেমেছে দলটি। ইতোমধ্যে মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানকে একক মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে পুরোদমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে তারা।
শুধু মেয়র পদই নয়, কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও চূড়ান্ত করে ফেলেছে জামায়াত। অথচ ক্ষমতাসীন দলে এখনো কোনো পদের জন্যই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা সম্ভব হয় নি। জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শতভাগ আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, “গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ ও ৩ আসনে সাধারণ মানুষ আমাদের পক্ষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। আমরা কেসিসি নির্বাচনেও সেই ধারা বজায় রেখে মেয়র পদে জয়লাভ করব ইনশাআল্লাহ।”
প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা ও মাঠের চিত্র
নগরীর বিভিন্ন মোড় মোড় সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে সামনে রেখে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের প্যানা, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড দিয়ে ছেয়ে ফেলেছেন গোটা মহানগরী। প্রার্থীরা ছুটছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রুটিন কাজের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিলেও ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো নাগরিক সমস্যাগুলো সামলাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এস এম মুশফিকুর রহমান এবারও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। রঙিন পোস্টার সাটিয়েছেন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে মহানগর বিএনপির সাবেক একাধিক নেতা জানান, আজ আমরা এমন এক কঠিন সময় ও রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের আত্মপর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আপনারা জানেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের দোড়গোড়ায়। খুলনা কিন্তু কোনো সাধারণ এলাকা নয়, এটি বরাবরই আমাদের আন্দোলনের দুর্গ এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক ছিল। অথচ আজ খুলনা বিএনপি ভেতরে ভেতরে কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেÑতা কি আমরা একবারও বুক চাপড়ে চিন্তা করে দেখেছি?
আমাদের মহানগরীর রাজপথ আজ ঐক্যবদ্ধ স্লোগানে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মহানগর বিএনপির ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব আর মঞ্জু-মনা-তুহিন গ্রুপের গৃহদাহ ও কোন্দলের খবর প্রতিনিয়ত উঠে আসছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মাসুল আমাদের দিতে হয়েছে। যদি আমরা নিজেদের মধ্যকার এই বিভেদ, কাদা ছোড়াছুড়ি আর গ্রুপিং বন্ধ করতে না পারি, তবে আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী এই মেয়র পদটিও কিন্তু আমাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
আমরা বাইরে থেকে দেখাচ্ছি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু ভেতরের অবস্থাটা যে কতটা ফাঁকাÑতা খুলনাবাসী আজ স্পষ্ট বুঝতে পারছে। আজ তৃণমূলের কর্মীরা দিশেহারা। নেতাদের এই অন্তর্কোন্দল ও দূরত্ব শুধু ওপরের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই, এটি সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায় পর্যন্ত। ফলস্বরূপ, ওয়ার্ড পর্যায়ে এক চরম নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক ও সুসংগঠিত দলের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক সংকেত।
আমাদের এই আত্মঘাতী কোন্দলের সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ সুযোগ সন্ধানী হয়ে উঠেছে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, খুলনার ইতিহাসে মেয়র পদে কোনো দিন জামায়াতে ইসলামী আসতে পারেনি। কিন্তু আজকের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আমাদের স্থানীয় শিথিলতার কারণে নির্বাচনে তাদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও যদি আমরা নিজেরা নিজেদের শুধরে নিতে না পারি, তবে এই ব্যর্থতার দায় আমাদেরই বহন করতে হবে। মঞ্জু-মনা-তুহিন গ্রুপের দ্বন্দ্বের নেতিবাচক প্রভাব যদি আসন্ন নির্বাচনেও অব্যাহত থাকে, তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসন তথা সদর আসন হারানোর মতো মেয়র পদটি হারাতে হবে।
তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আশাবাদী বর্তমান কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, “দলীয় হাইকমান্ড থেকে সিটি নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো বার্তা আসেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে, মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর বিএনপির সভাপতি কেডিএর চেয়ারম্যান এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, “দলের কাছে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইব। দল যদি উপযুক্ত মনে করে দায়িত্ব দেয়, তবে অবশ্যই নির্বাচনে লড়ব।”
তফশিল ঘোষণার আগেই মেয়র ও কাউন্সিলর পদ ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন তৎপরতায় খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে কেসিসি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলটির প্রার্থী বাছাই নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপিও প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর দলগুলোর প্রার্থী ও নির্বাচনী কৌশল আরও স্পষ্ট হবে। সবমিলিয়ে, খুলনার রাজনৈতিক ময়দানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপির ঘরোয়া কোন্দল বনাম জামায়াতের সুসংগঠিত প্রস্তুতি। এই অনৈক্য দূর করে বিএনপি তাদের দুর্গ রক্ষা করতে পারবে, নাকি ভাঙনের সুযোগ নিয়ে জামায়াত ইতিহাস গড়বেÑসেটাই এখন দেখার বিষয়।
