গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চিত্রনায়িকা মৌসুমী দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় বসবাস করছেন। অবশেষে দীর্ঘ ৩ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মুলুকে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি স্বীকৃতি বা গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিষয়টি অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মৌসুমী। এরপর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার বিষয়টিও দেখভাল করছিলেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ফলে এখন থেকে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং আইনগতভাবে কাজ করার পূর্ণ অধিকার অর্জন করলেন এই নায়িকা। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট নিয়ম ও মেয়াদ পূর্তির পর চাইলে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারবেন তিনি।
১৯৯০ সালে ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’-এ বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে কাজ শুরু করেন মৌসুমী। এরপর ছোট পর্দার কাজ ও বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯৩ সালে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়। প্রথম ছবিতেই তারকাখ্যাতি পান তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন মৌসুমী। চলচ্চিত্রে অভিনয়ে স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন। ২০০৩ সালে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ সিনেমা পরিচালনার মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৬ সালে ‘কপোতাক্ষ চলচ্চিত্র’ নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৬ সালে চিত্রনায়ক ওমর সানীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার শিকার ইমন
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। বিদেশের মাটিতে আবারও হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি এবং তার দল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ডালাস বিমানবন্দর থেকে নিউ জার্সি যাওয়ার সময় হেনস্তার ঘটনাটি ঘটে।
গায়িকার অভিযোগ, কোনোরকম সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের বোর্ডিংয়ে বাধা দেওয়া হয়। সংগীতশিল্পীদের মূল সম্বল তাদের বাদ্যযন্ত্র। কিন্তু বিমানে ওঠার সময় কর্তৃপক্ষ জানান, যাতায়াতের সময় বাদ্যযন্ত্র ভেঙে গেলে বা নষ্ট হলে তার কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। বিমান কর্তৃপক্ষের এমন অপেশাদার আচরণের প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায় এয়ারলাইন্সের কর্মীরা ইমন ও তার দলের সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে গেট থেকে সরিয়ে দেন। নানাবিধ হেনস্তার মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের ফ্লাইটই মিস হয়।
পরে অবশ্য বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে অন্য একটি ফ্লাইটের কথা বলা হয়। সেখানেও হেনস্তার শেষ নেই। সবার সিট পাওয়া নিয়ে শুরু হয় নতুন সমস্যা। পুরো ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ইমন। বিপদের সময় তার পাশে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন ইমনের ভক্তরা।
আরও পড়ুন
শতবর্ষী মন্দির নিয়ে সৈকত দাসের পূজার গান
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সাদা মেঘ আর শ্বেত শুভ্র কাশ ফুল বলে দেয় শরৎ এসেছে। মাসটির অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকেন সনাতন ধর্মের অনুসারীরা। কেননা এ সময় বাবার গৃহে আসেন দূর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গা। তার আগমনে ঢাকের বোল, শাঁখের ধ্বনি, কাসার থাল বেজে ওঠে প্রাণ খুলে। শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজা ঘিরে সংগীত অঙ্গনেও বাড়ে ব্যস্ততা। শিল্পীরা নতুন গানের কথা সুর সংগীত নিয়ে সময় কাটান। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তারই ধারাবাহিকতায় দুর্গা পূজা উপলক্ষে তৈরি হলো শতবর্ষী মন্দির নিয়ে একটি গান। শিরোনাম ‘মা দুর্গা এলেন ঘরে’। গানটির কথা লিখেছেন পঙ্কজ দেব অপু। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সুমন কল্যাণ। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন সৈকত দাস, সুমন কল্যাণ, মৌমিতা বড়ুয়া, অনন্যা আচার্য ও পলাশ লোহ। গেল ৯ অক্টোবর গানটির একটি সংস্করণ প্রকাশ পেয়েছে। পূজার পরের সপ্তাহে প্রকাশ পাবে মিউজিক ভিডিও।
গানটি নিয়ে সৈকত দাস বলেন, ‘গানটি পূজার আর দশটি গানের চেয়ে আলাদা। এটি ১১২ বছরের পুরনো মন্দির নিয়ে করা। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডু থানার অন্তর্গত বহরপুর গ্রামে আমার বাড়ি। সেখানেই মন্দিরটি। পূজা হচ্ছে ১১২ বছর ধরে। অর্থাৎ আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পূজা করছি সেখানে। আমাদের বাড়ি মুক্তার বাড়ি নামে পরিচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি যখন সুমন কল্যাণকে বছিলাম তখন সে আমাকে বেশ উৎসাহ দেয়। আমিও অনুপ্রাণিত হয়ে কাজটি নিয়ে এগোই। নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বাকি সবাই ভালো গেয়েছেন। সুমন কল্যাণ দারুণ সংগীত করেছেন। এটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে বলে মনে করছি। গানটি আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল সৈকত দাস মিউজিক থেকে আসবে।’
উল্লেখ্য, কালী পূজা উপলক্ষেও একটি মৌলিক শ্যামা সংগীত গেয়েছেন সৈকত দাস। প্রকাশ পাবে দীপাবলিতে। এটিরও কথা লিখেছেন পঙ্কজ দেব অপু। সুর করেছেন গায়ক নিজেই। সংগীত পরিচালনা করেছেন সুমন কল্যাণ। এ গানটিও গায়কের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ পাবে।
আরও পড়ুন
চেনা ছকের বাইরে জেনা ওর্তেগা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->হলিউডে জেনা ওর্তেগাকে বললেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে ‘ওয়েন্সডে ’ সিরিজের গথিক সাজ, গম্ভীর মুখ আর রহস্যময় উপস্থিতি। তবে এবার সেই পরিচিত চেহারার বাইরে গিয়ে নতুন রূপে হাজির হলেন এই মার্কিন অভিনেত্রী। রোম চলচ্চিত্র উৎসবে তার পোশাক ও উপস্থিতি নজর কেড়েছে দর্শক ও ফ্যাশনপ্রেমীদের।
১৭ অক্টোবর ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ২১তম রোম চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের অভিনীত সিনেমা ‘ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান’-এর প্রদর্শনীতে অংশ নেন জেনা। সিনেমাটির পরিচালক অস্কারজয়ী তাইকা ওয়াইতিতির সঙ্গে উৎসবের আয়োজনে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলা ও অটোগ্রাফ দেওয়ার মধ্য দিয়েও সাড়া ফেলেন অভিনেত্রী।
এবারের আয়োজনে জেনার পোশাকে ছিল ষাটের দশকের ফ্যাশনের ছোঁয়া। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি পরেছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়েরে কার্দিনের নকশা করা পুরোনো একটি পোশাক। পরে রবার্তো কাভালির নকশা করা আরেকটি গাউনেও দেখা যায় তাকে। তার এই সাজ পরিচিত গথিক আবহ থেকে আলাদা এক রূপ সামনে এনেছে।
‘ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান’ সিনেমাটিও জেনার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। কাজুও ইশিগুরোর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটির পরিচালনা করেছেন তাইকা ওয়াইতিতি। এতে ক্লারা নামের এক কৃত্রিম বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেনা। কিশোরী জোসি ও তার পরিবারের জীবনে আবেগ, ভালোবাসা এবং মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে চরিত্রটি।
আরও পড়ুন
দর্শক খরায় চিরকুট, কাট-পিস ও স্নেহের বন্ধন, উঠছে না বিদ্যুৎ বিলের খরচ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগেৃহে মুক্তি পেয়েছে তিন সিনেমা ‘চিরকুট’, ‘স্নেহের বন্ধন’, ও ‘কাট-পিস’। সিনেমাগুলো ঘিরে নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রত্যাশা থাকলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক খরায় ভূগছে সিনেমাগুলো।
তিন সিনেমার টিকিট বিক্রি এবং দর্শক উপস্থিতি নিয়ে হতাশ খোদ হল মালিকরা। সিনেমাগুলো চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের খরচও উঠছে না বলে হতাশার কথা জানিয়েছেন তারা। কোথাও দর্শকের অভাবে শো করা হয়েছে বাতিল, আবার কোথাও হাতেগোনা টিকিট বিক্রির আয় দিয়ে মেটানো যাচ্ছে না বিদ্যুৎ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও কর্মীদের খরচ। ফলে সিনেমা প্রদর্শন করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষকে।
১৮ অক্টোবর স্টার সিনেপ্লেক্সের ওয়েব সাইট ঘুরে দেখা যায়- ‘চিরকুট’ সিনেমায় বালি অর্কেড চট্টগ্রামে সাড়ে ৭টার শোতে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়েছে মোট ৪টি, স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরায় ১৩টি, রাজধানীর সেন্টারপয়েন্ট উত্তরায় সাড়ে ৫টার শোতে ২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।
রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে চিরকুট সিনেমার টিকিট বিক্রি হয়েছে মোট ২৫টি। ‘কাট-পিস’ সিনেমায় ক্ষেত্রে সনি স্কয়াস মিরপুরে ৭টা ১৫ এর শোতে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোনো টিকিটই বিক্রি হয়নি। এমন অবস্থায় থাকলে শেষ পর্যন্ত শো বাতিল হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের বিভিন্ন হল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সিনেমাগুলোর ফলাফল আশানুরূপ নয়। আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল তার পূরণ হয়নি এবং হচ্ছে না। তবুও আমরা বাংলা সিনেমার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ববোধ থেকেই সিনেমাগুলো প্রদর্শন করছি। সিনেপ্লেক্সকে টার্গেট করে যারা সিনেমা নির্মাণ করেন, তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা সিনেপ্লেক্সের দর্শকরা কি চায় এটা বুঝে সিনেমা নির্মাণ করুন। শুধু সিনেমা নির্মাণ করে সিনেপ্লেক্সে মুক্তি দিলেই সেটা চলবে না। দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে ফেরাতে হলে দর্শকের রুচি ও পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে সিনেমা নির্মাণ করতে হবে।’
হতাশার কথা জানিয়েছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক। তার তথ্য অনুযায়ী, ‘স্নেহের বন্ধন’-এর একটি প্রদর্শনীতে বিক্রি হওয়া ৩৭টি টিকিটের মধ্যে ৩৫টিই কিনেছেন সিনেমাটির প্রচারণায় আসা প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাধারণ দর্শকের কাছ থেকে এসেছে মাত্র দুটি টিকিটের বিক্রি। একই দিনে ‘কাট-পিস’-এর একটি প্রদর্শনীতে বিক্রি হয়েছে মাত্র আটটি টিকিট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, দর্শক না এলে প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শুধু টিকিট বিক্রির সংকট নয়, সিনেমা চালানোর নিয়মিত খরচ নিয়েও উদ্বিগ্ন হলমালিকেরা। লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক বলেন, ‘সিনেমা প্রদর্শনের আগে পোস্টার ছাপানোসহ প্রচারণার নানা খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু দর্শক না এলে সেই বিনিয়োগের সুফল মেলে না। তার ভাষ্য, ‘অনুরোধে সিনেমা চালাতে গিয়ে অনেক সময় হলমালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
সিনেমার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লায়ন সিনেমাসের এই কর্ণধার। তার মতে, একজন দর্শককে সিনেমা দেখতে গেলে টিকিটের বাইরে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও করতে হয়। সব মিলিয়ে যে অর্থ ব্যয় হয়, সিনেমা দেখে তার যথাযথ মূল্য না পেলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসতে আগ্রহী হবেন না।
রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটির বিভাগীয় প্রধান (এইচওডি) মেহেদি হাসানের তথ্য অনুযায়ী, টিকিট বিক্রি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ‘কাট-পিস’-এর কোনো শো চালানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ‘চিরকুট’-এর প্রতিটি প্রদর্শনীতে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এই আয় দিয়ে প্রেক্ষাগৃহের নিয়মিত ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। মেহেদির মতে, পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে ‘চিরকুট’ প্রত্যাশিতভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। পূজার ছুটি শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খুললে দর্শকসংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
বরিশালের অভিরুচি সিনেমা হলেও সিনেমাগুলোর প্রদর্শনীতে দর্শকসংকট দেখা গেছে। স্নেহের বন্ধনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম দিন দুপুরের শোতে দর্শক ছিলেন ছয়জন, সন্ধ্যায় নয়জন। শনিবার দুপুরের শোতে চারটি এবং বিকেলের শোতে মাত্র দুটি টিকিট বিক্রি হয়। দর্শক না থাকায় রাতের ও বিশেষ প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার মতে, বরিশালে এমনিতেই সিনেমার বাজার সীমিত; ভালো গল্পের সিনেমা হলে কিছু দর্শক পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, উল্কা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন জানান, পূজায় প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শক না থাকলেও প্রথম দুই দিনে প্রায় ২০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। তৃতীয় দিনে দর্শকসংখ্যা কমেছে। তবে বাংলা সিনেমা নিয়ে তারা এখনও আশাবাদী।
পূজাকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিন সিনেমার গল্প ও বিষয়বস্তুতে ছিল ভিন্নতা। পোশাকশিল্পের অন্ধকার জগত নিয়ে ইফফাত জাহান মম নির্মাণ করেছেন ‘কাট-পিস’। এতে অভিনয় করেছেন সিফাত আমিন শুভ, রাফাহ নানজীবা তোরসা প্রমুখ। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্য ঘটনা ও ক্যাম্পাসের স্মৃতিনির্ভর সিনেমা ‘চিরকুট’ পরিচালনা করেছেন মুনতাসির আকিব। এতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নির্মাতার স্ত্রী আজিজুন মিম। এতে আরও অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, কাজী নওশাবা আহমেদ, সুমন পাটোয়ারী প্রমুখ। জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত পারিবারিক গল্পের সিনেমা ‘স্নেহের বন্ধন’ পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান।
তবে সিনেমাগুলো থেকে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও সিনেমা সংশ্লিষ্টরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন ভিন্নকথা। প্রচার-প্রচারণায় ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেরাই নিজেদের সিনেমাকে হিট তকমা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
