দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে মূল্যসূচকের ধারাবাহিক পতন ও মন্দা ভাব বজায় ছিল। সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক, এমনকি গত শনিবার চলতি বছরের সর্বনিন্ম লেনদেনের রেকর্ডও হয়েছিল। তবে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের দীর্ঘ ছুটির ঠিক আগের শেষ কার্যদিবসে এসে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক এবং লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এর ফলে একপ্রকার কিছুটা স্বস্তি এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পাঁচ দিনের টানা ছুটির কবলে প্রবেশ করছে দেশের শেয়ারবাজার।
আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বা ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় আঠারো পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার চারশত একান্ন পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এর আগে গত রবিবার সূচক এগারো পয়েন্ট এবং শনিবার উনিশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছিল, যার ফলে টানা দুই কার্যদিবসের শ্লথগতি ও পতনের পর শেষ কর্মদিবসে এসে সূচকের এই জোরালো উত্থান ঘটল।
ডিএসইতে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচশো দুই কোটি তেষট্টি লাখ টাকায়। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল তিনশো পঁয়ষট্টি কোটি একষট্টি লাখ টাকার সিকিউরিটিজ। সেই হিসেবে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন একশো সাতাশ কোটি দুই লাখ টাকা অর্থাৎ প্রায় সাঁত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারটিতে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আজ ডিএসইতে মোট তিনশো একাশিটি কোম্পানি ও তহবিলের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে একশো সাতাশিটি প্রতিষ্ঠান বা প্রায় উনপঞ্চাশ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে একশো ছত্রিশটি প্রতিষ্ঠান বা প্রায় পঁয়ত্রিশ শতাংশের দর কমেছে এবং বাকি আটান্নটি প্রতিষ্ঠান বা পনেরো শতাংশের বেশি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল।
অপরদিকে বন্দরনগরীর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসইতেও আজ ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এদিন সিএসইতে মোট একুশ কোটি সতেরো লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যেখানে গত কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল আট কোটি উনআশি লাখ টাকা। এই হিসাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সিএসইতে মোট লেনদেন বেড়েছে বারো কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এইদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট একশো পঞ্চাশটি কোম্পানির মধ্যে চৌষটিটির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সমসংখ্যক অর্থাৎ চৌষটিটি কোম্পানির দর পতন ঘটেছে, এছাড়া অপরিবর্তিত ছিল বাইশটি প্রতিষ্ঠানের দর। দিন শেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই সাতষট্টি পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে চৌদ্দ হাজার ছয়শো চার পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে, যেখানে এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ছত্রিশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছিল।
