October 14, 2026, 9:24 am
লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ
Reporter Name
- Update Time : Wednesday, October 14, 2026
- 0 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে বৈদ্যুতিক যান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির চাহিদা এখন ঊর্ধ্বমুখী। এই ক্রমবর্ধমান বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ দুই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এবং প্রাণ আরএফএল গ্রুপ বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে মাঠে নেমেছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় খুব শীঘ্রই লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সেল উৎপাদন শুরু হতে চলেছে। অন্যদিকে প্রাণ আরএফএল গ্রুপ হবিগঞ্জের নিজস্ব শিল্পপার্কে বিদেশ থেকে সেল আমদানি করে ব্যাটারি প্যাক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের সামগ্রিক ব্যাটারির বাজারের আকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রচলিত লেড অ্যাসিড ব্যাটারি। তবে এর মধ্যে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির বর্তমান বাজারমূল্য দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো। সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইলেকট্রিক বাইক এবং আইপিএস বা সোলার স্টোরেজের মতো বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থার ব্যাপক চাহিদার কারণে অদূর ভবিষ্যতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বাজারের সিংহভাগ দখল করে নেবে।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং বছরে ১ কোটি পিস ব্যাটারি সেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মোটরসাইকেল, খেলনা ও রিচার্জেবল পণ্যের উপযোগী সেল উৎপাদিত হলেও ভবিষ্যতে ইজিবাইক ও সোলার স্টোরেজের জন্য বড় আকারের ব্যাটারি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাণ আরএফএল গ্রুপ ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ শিল্পপার্কে কারখানা স্থাপন করেছে, যেখানে ব্লেইজ ব্র্যান্ডের অধীনে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক তিন চাকার গাড়ির উপযোগী ব্যাটারি প্যাক তৈরি করা হবে।
প্রচলিত লেড অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি অনেক বেশি হালকা, টেকসই এবং দ্রুত চার্জ সম্পন্ন হয়। প্রচলিত ব্যাটারি চার্জ হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় নিলেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় তা সম্ভব হয় এবং এর স্থায়িত্বও অনেক বেশি। যদিও বর্তমানে আমদানির ওপর নির্ভরতার কারণে এসব ব্যাটারির দাম কিছুটা বেশি, তবে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন শুরু হলে উৎপাদন খরচ ও শুল্কের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং সাধারণ ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত প্রযুক্তির এই ব্যাটারি সংগ্রহ করতে পারবেন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


