বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরের কাছে একটি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এ বার গ্রেফতার করা হল আরও এক চিকিৎসককে। সোমবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের খোসবাগানের একটি বাড়ি থেকে সংশ্লিষ্ট অ্যানাস্থেটিস্টকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় এর আগে ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক শেখ সইদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ওই নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই শিশুটির বাবা জয়ন্ত রায় বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্বাস্থ্য দফতরেও অভিযোগ জানান তিনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দফতরের তরফেও ঘটনার তদন্ত করা হয়। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরের একটি রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা পড়ে। ওই রিপোর্টে ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তার পরেই তদন্তে আরও তৎপরতা বাড়ায় পুলিশ। চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় সইদুলকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। তদন্ত এগোতে থাকলে ওই নার্সিংহোমে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত অ্যানাস্থেটিস্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার পর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই অভিযুক্ত অ্যানাস্থেটিস্টের সন্ধান চলছিল। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনের টাওয়ারের অবস্থান অনুসরণ করে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই সোমবার সন্ধ্যায় খোসবাগানের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়। চার বছরের শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অ্যানাস্থেটিস্টের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
