বিপদ দেখলে সাপ সাধারণত এঁকেবেঁকে দূরে সরে যায়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে বসবাসকারী কিছু ছোট সাপ পালানোর জন্য এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করে। নিজেদের শরীর শূন্যে ছুড়ে তারা চাকার মতো গড়িয়ে এগিয়ে যায়। সাপেদের সেই অদ্ভুত কৌশলের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োরর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সাপগুলি কী ভাবে এই অসাধারণ কৌশলটি সম্পন্ন করে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এমন একটি বিরল আচরণকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন, যা প্রথম বার ২০২৩ সালে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তিন প্রজাতির ‘ডোয়ার্ফ রিড সাপ’ কী ভাবে তাদের শরীর ব্যবহার করে এই কসরতপূর্ণ কৌশলটি প্রয়োগ করে।
এই কৌশলের শুরুতে সাপটি তার শরীরকে ইংরেজি ‘সি’ অক্ষরের মতো বাঁকিয়ে ফেলে এবং যে দিকে যেতে চায়, সে দিকে মাথা তাক করে রাখে। এর পর সাপটি প্রচণ্ড জোরে তার শরীর সোজা করে, লেজটিকে পিছনের দিকে ঝাপটা দেয় এবং মুহূর্তের জন্য মাটি থেকে নিজেকে উপরে তুলে ফেলে। এর পর সাপটি তার লেজ সামনের দিকে ঘুরিয়ে মাথার উপর দিয়ে নিয়ে আসে। যখন লেজ মাথার সামনে মাটিতে গিয়ে পড়ে, তখন সাপটির একটি ঘূর্ণন সম্পন্ন হয়। সেটি চাইলে আবার একই ভাবে গড়িয়ে চলতে পারে।
গবেষকেরা ২.২ মিটার দীর্ঘ একটি পথের উপর ও পাশে ক্যামেরা বসিয়ে ওই সর্পপ্রজাতির এই আত্মরক্ষার কৌশল ক্যামেরাবন্দি করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ‘সিউডোরাবডিওন’ গণের তিন প্রজাতির ১৩টি সাপ এবং তুলনার জন্য ‘ক্যালামারিয়া’ দলের ছ’টি রিড সাপ নিয়ে গবেষণা করেন। দেখা যায়, ‘সিউডোরাবডিওন’ গণের ১৩টি সাপই এই ঘূর্ণন কৌশল প্রদর্শন করেছে, অথচ ‘ক্যালামারিয়া’ দলের ছ’টি সাপের কোনওটিই এমনটা করেনি। সবচেয়ে দ্রুত গতিতে চলার সময়, এই ঘূর্ণনরত সাপগুলি প্রতি সেকেন্ডে ১.৭ থেকে ৩.৭ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, যা ঘণ্টায় প্রায় ৬ থেকে ১৩ কিলোমিটার গতির সমান।
সাপ কেন বিপদ থেকে বাঁচতে চাকার মতো গড়িয়ে (কার্টহুইল করে) পালিয়ে যায়? গবেষকদের মতে, এ ভাবে চাকার মতো গড়িয়ে চলার ফলে সাপ দ্রুত এবং অনিশ্চিত গতিতে নড়াচড়া করতে পারে, যা তাদের শিকার হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। এ ছাড়া, এই আকস্মিক নড়াচড়া বিপদের উৎসকে চমকে দিতে পারে, যার ফলে সাপটি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। ২০২৩ সালে ‘বায়োট্রপিকা’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ‘ডোয়ার্ফ রিড স্নেক’ প্রজাতির সাপের মধ্যে এই আচরণটি প্রথম বারের মতো বৈজ্ঞানিক ভাবে নথিভুক্ত করা হয়। এই প্রজাতির সাপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে বাস করে, যেখানে তারা প্রায়শই ঝরা পাতা বা মাটিতে পড়ে থাকা অন্যান্য আবরণের নীচে লুকিয়ে থাকে। তবে সাপটির অদ্ভুত ক্ষমতা কী ভাবে বিবর্তিত হল কিংবা কেন একই গোত্রভুক্ত অন্যান্য সাপ এই কৌশল ব্যবহার করে না, তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। এই সাপগুলির শরীরে বিশেষ কোনও শারীরিক গঠন রয়েছে, না কি তারা কেবল ভিন্ন ভাবে তাদের পেশিগুলিকে সক্রিয় করে, তা-ও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাপের গাড়ির চাকার মতো ঘোরার ভিডিয়োটি ‘এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা’র এক্স হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকদের অনেকে।
