‘শাকের ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’—এমন নানা স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে মাগুরা শহর। মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মাগুরা জেলা প্রেসক্লাব ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে মাগুরা-ঢাকা সড়ক ও পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল এলাকার মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত শাকের হোসেনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম লুবনা নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু দুজনকে গ্রেপ্তার করেই যেন তদন্ত বন্ধ না হয়; সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নেপথ্যের মূল অপরাধী ও সহায়তাকারীদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে।
এদিকে গত পাঁচ দশকে জেলায় এমন প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে পটপরিবর্তনের পর মাগুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, টেন্ডারকেন্দ্রিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নানামুখী গুজবে কান না দিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের যাবতীয় আলামত সংগ্রহ ও অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর।
জেএইচআর
