কারাবন্দি সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও পেশাগত অধিকার খর্বের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামালসহ নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা বেড়েছে।
তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়নের ধারা বর্তমান সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক গাজী তুষার আহমেদ ও শেখ ইমন আহমেদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে শেখ জামাল দাবি করেন, সারা দেশে ৫২ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কয়েকজন এখনো কারাগারে রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ১১৮ জন সাংবাদিক শারীরিক হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ১৫ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন এবং জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ ৪৪৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি, সম্পাদকীয় পদে পরিবর্তন, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল, সাংবাদিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংক হিসাব বন্ধের মতো পদক্ষেপের কারণে অনেকে পেশাগত ও ব্যক্তিগত সংকটে পড়েছেন। এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, সদস্য সাজেদা হক, একেএম ওবায়দুর রহমান, রাগেবুল রেজা, ওয়ারেছুন্নবী খন্দকার, নাঈমুর রহমান স্বপন, হাসনাত শাহিন, রহিমা খানম, শফিউর রহমান, মাজেদুল ইসলাম পাপেল, সুজিত সজীব ও রমজান আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
