Published : 19 Oct 2026, 06:00 AM
Updated : 17 Oct 2026, 12:49 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো চমকপ্রদ খবর দেখলে আমরা অনেক সময় সত্যতা যাচাই না করেই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করি। পরে দেখা যায়, খবরটি ছিল গুজব। এতে অনেকে বিভ্রান্ত হয় আর ভুল তথ্য ছড়ানোর দায়ও আমাদের ওপর পড়ে।
আমার মনে হয়, আমরা অনেক সময় কোনো তথ্য সত্য বলে ধরে নিই শুধু সেটি অনেক মানুষ শেয়ার করেছে বলে। পরিচিত কেউ পাঠালে কিংবা খবরের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও থাকলেও সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। কিন্তু কোনো তথ্য বারবার ছড়ালেই তা সত্য হয়ে যায় না। ছবি বা ভিডিও থাকলেও তার পেছনের ঘটনা ভিন্ন হতে পারে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ২০২৫ সালের একটি জরিপে প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণ অংশ নেয়। তাদের মধ্যে প্রতি তিনজনের দুজনের বেশি সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত ভুয়া তথ্য ও অপতথ্যকে মানসিক চাপের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ থেকে বোঝা যায়, অনলাইনে ভুল তথ্য শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করে না, তরুণদের জন্য উদ্বেগেরও কারণ হতে পারে।
তাই কোনো খবর দেখলেই সেটি শেয়ার করার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি। খবরটি কোথা থেকে এসেছে, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একই তথ্য আছে কি না, প্রকাশের তারিখ কী এবং ছবিটি সত্যিই ওই ঘটনার কি না তা দেখতে হবে। সন্দেহ হলে তথ্যটি শেয়ার না করাই ভালো।
আমার মতে, সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বশীল হওয়া মানে শুধু ভালো কথা বলা নয়, সত্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়াও। একটি ভুল তথ্য অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। আবার আমরা একটু সতর্ক হলেই সেই তথ্যের বিস্তার থামাতে সাহায্য করতে পারি।
তাই এখন থেকে কোনো চমকপ্রদ খবর দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার না করে আগে যাচাই করতে চাই। কারণ, তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যেমন সহজ, ভুল তথ্যের কারণে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা তেমন সহজ নয় বলে আমি মনে করি।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: কিশোরগঞ্জ।
