আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ফের তলানিতে স্থান ভারতের। ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১০০তম। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন উচ্চতার তুলনায় কম ওজন বা ওয়েস্টিং-এর সমস্যায় ভুগছে। অপুষ্টির দিক থেকে ইথিওপিয়ার মতোই ভারতও রয়েছে একই অবস্থানে। দু'টি দেশের স্কোরই ২৪.১। যা তাদের 'গুরুতর' ক্ষুধার শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত। যদিও দীর্ঘমেয়াদি কিছু সূচকে কিছুটা উন্নত স্থানে ভারত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের এই ফলে মূলত দেশের পুষ্টিজনিত চ্যালেঞ্জগুলিকেই প্রতিফলিত করছে। বিশেষত, শিশুদের ক্ষেত্রে এই অপুষ্টির বিষয়টি বিশেষভাবে এই সূচকে ধরা দিয়েছে। সূচক অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার ৯.৮ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সি ২৯.৩ শতাংশ শিশু খর্বকায় (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা) এবং ১৯ শতাংশ শিশু ওয়েস্টিং বা উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিকার। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর হার ২.৭ শতাংশ।
সূচক অনুযায়ী, ভারতের স্কোর বৈশ্বিক গড় (১৮.১) এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক গড় (২৩.৫)-এর চেয়ে বেশি। স্কোর যত বেশি হয়, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত ভয়াবহ বলে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় ভারতের ক্ষুধার স্কোর বেশি হলেও, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তুলনায় তা কম।
আফগানিস্তানের স্কোর ২৮.৬ এবং পাকিস্তানের স্কোর ২৫.৫। ভারত ও ইথিওপিয়ার স্কোর ২৪.১। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্কোর ১৯.২, নেপালের ১৪.৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০.২—এই দেশগুলো 'মাঝারি' ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে। ভুটান ও মালদ্বীপের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় এই সূচকে তাদের কোনও স্কোর নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। জিএইচআই চারটি সূচকের ভিত্তিতে ক্ষুধার মাত্রা মূল্যায়ন করে: অপুষ্টি, শিশুদের খর্বকায় অবস্থা, শিশুদের ওয়েস্টিং এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার।
সামগ্রিক স্কোর নির্ধারণের ক্ষেত্রে অপুষ্টি এবং শিশু মৃত্যুর হার—প্রতিটির জন্য এক-তৃতীয়াংশ করে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের খর্বকায় অবস্থা ও ওয়েস্টিং—প্রতিটির জন্য এক-ষষ্ঠাংশ করে গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সূচকটি মিলিতভাবে জার্মান সংস্থা 'ওয়েলথুঙ্গারহিলফে', আইরিশ সংস্থা 'কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড' এবং 'ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অফ পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট' (IFHV) প্রকাশ করে। এছাড়া এই উদ্যোগে 'হেলভেতাস' (Helvetas)-ও যুক্ত রয়েছে। এর লক্ষ্যই হল- বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুধার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টির কারণ ও পরিণতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
২০২৬ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ, ২০১৮ সালের তুলনায় বৈশ্বিক ক্ষুধার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। যা ২০০০ সাল থেকে চলে আসা দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির ধারাকে ব্যাহত করেছে।
