- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিনিয়োগের টোপ গিলে কোটি টাকা খোয়ালেন অধ্যাপক। তাঁকে বিনিয়োগের জাল কাগজপত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত এক দম্পতি। চেতলা থানায় লিখিত অভিযোগ হওয়ার পরেও প্রতারণা মামলার তদন্তে ঢিলেমির অভিযোগও উঠেছে। দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যোগমায়া দেবী কলেজের অধ্যাপক গৌতম ভট্টাচার্যের সঙ্গে ব্যাংকে পরিচয় হয় অভিযুক্ত দীনেশ প্রসাদ ও তাঁর স্ত্রীর। তাঁরা ওই অধ্যাপককে জানান, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, শেয়ারসহ বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁরা সাহায্য করেন। ব্যাংকের এজেন্ট হিসাবে তাঁরা কাজ করছেন। অনেকেই তাঁদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে। ওই অধ্যাপককে বিভিন্ন স্কিমে কত টাকা রিটার্ন দেওয়া হচ্ছে, সেই তথ্য তুলে ধরেন দম্পতি। তাঁদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ধাপে ধাপে এক কোটির বেশি টাকা বিনিয়োগ করে বসেন গৌতমবাবু। তাঁকে বিভিন্ন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না। সন্দেহ হওয়ায় ওই অধ্যাপক ওই সার্টিফিকেটগুলি নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা জানায়, এর মধ্যে একাধিক সার্টিফিকেট জাল। অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন ওই দম্পতি। এরপর তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন ওই দম্পতিকে। কিন্তু তাঁরা টাকা ফেরত দিচ্ছিল না বলে অভিযোগ। অধ্যাপক বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাম্বুশমেন্ট বিভাগে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে কিছু টাকা ফেরত পান। কিন্তু বিনিয়োগের নাম করে যে জাল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে অভিযোগ করেন চেতলা থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ প্রতারণার মামলা রুজু করে। তাতে ওই দম্পতির নাম ছিল। অভিযোগ, প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পরেও পুলিশ তদন্তে গাছাড়া মনোভাব দেখিয়েছে। যে কারণে তদন্ত এগয়নি। নথি উদ্ধারে জোর দেওয়া হয়নি। অভিযুক্তরা এখনও অধরা। যদিও পুলিশের দাবি, প্রতারণা মামলার বিভিন্ন নথি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট এসে গেলেই তারা আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করবে।
