দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আবেদন
সৈয়দপুরে সড়ক-ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী ও সহকারী প্রকৌশলী মাসুম আজাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে নিম্নমানের কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর পৌরসভার শেরেবাংলা সড়ক, শহীদ জহুরুল হক রোড এবং নতুন বাবুপাড়া হাজী কলোনি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে নিম্নমানের ইট, খোয়া, পাথরসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজে যথাযথ মান নিশ্চিত না হলে সড়ক ও ড্রেনের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী ও সহকারী প্রকৌশলী মাসুম আজাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কাজের মান নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিরস্কার ও ভর্ৎসনার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তাঁদের উদ্দেশে ‘আপনাদের যা করার আছে করেন’ বলে মন্তব্য করা হয়।
এ অবস্থায় নির্মাণকাজের মান যাচাই, যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। সৈয়দপুরবাসীর পক্ষে করা অভিযোগপত্রে মো. মতিয়ার রহমান (মতি), মো. তৌহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন বাসিন্দার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
অভিযোগটি নীলফামারীর জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বরাবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেবেন না এবং কিছু জানেন না। সড়কের বাজেটসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে পূজার ছুটি শেষে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
সহকারী প্রকৌশলী মাসুম আজাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আর কী বলব, ওখানে তো আমার বস বলল।’
অন্যদিকে, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে সড়ক নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
