হু হু করে ছুটবে বাইক। কখনও পাহাড়, কখনও জঙ্গল, কখনও সৈকতের পথ ধরে। আপনি হারিয়ে যাবেন দিকশূন্যপুরের দিকে। পুজোয় বাইক-সফরের দশটি রুটের খোঁজ রইল এই প্রতিবেদনে।
০১ / ১৫
পুজোর ভিড় থেকে পালানোর সেরা উপায়? একটা বাইক, খোলা হাইওয়ে আর অচেনাকে চিনে নেওয়ার সাহস। ইচ্ছে করছে বুঝি? তবে আপনার জন্যই রইল দশটি বাইক রাইডের হদিশ, যার প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে থাকতে পারে নতুন রোমাঞ্চের ঠিকানা।
০২ / ১৫
দার্জিলিং-এর মল রোডে ছবি তোলার বদলে বাইক ঘোরান অন্য দিকে। বিজনবাড়ি, সিঙ্গটম, রিম্বিক কিংবা লেপচাজগতের মতো তুলনায় নিরিবিলি পথে ঢুকে পড়ুন। চা-বাগানের ফাঁকফোকর, ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম, কাঠের বাড়ি আর মেঘে ঢাকা রাস্তা— এখানেই পাহাড়ের আসল স্বাদ। স্থানীয় হোমস্টেতে থাকুন। পর্যটক কম, গল্প বেশি।
০৩ / ১৫
ডুয়ার্স — জঙ্গলের রাস্তা আর নদীর সঙ্গী হবেন? শিলিগুড়ি থেকে চালসা, তার পরে মূর্তি, ঝালং, বিন্দু— ডুয়ার্সের এই পথটা যেন বাইকের জন্যই তৈরি! চা-বাগান শেষ হয়ে শালবন শুরু হবে, কোথাও নদী রাস্তার পাশে পাশে ছুটবে, কোথাও হঠাৎ পাহাড় এসে দাঁড়াবে সামনে। তবে হ্যাঁ, হাতি দেখলে নায়ক হওয়ার চেষ্টা করবেন না! থাকতে চাইলে ঝালং বা মূর্তিতে হোমস্টে, ক্যাম্প ও ছোট গেস্ট হাউস রয়েছে।
০৪ / ১৫
সিকিমের পুরনো সিল্ক রুট। রোমাঞ্চের স্বাদ কিন্তু নতুন হতেই পারে! গ্যাংটকের ভিড় পেরিয়ে বাইক ছোটান রংলি–জুলুকের দিকে। পুরনো সিল্ক রুটের আঁকাবাঁকা রাস্তা পাহাড়ের গায়ে এমন ভাবে উঠে যায়, মনে হবে যেন কেউ পেন্সিল দিয়ে এঁকে দিয়েছে। রেশিখোলা, জুলুক, ছাংগু— চাইলে মূল পর্যটনপথ ছেড়ে ছোট গ্রামেও ঢুকে পড়তে পারেন। রাত কাটান স্থানীয় হোমস্টেতে। সকালের চা আর মেঘ— এই রুটের বিলাসিতাই আলাদা!
০৫ / ১৫
গন্তব্য তাওয়াং। এখানে রাস্তা আপনার পরীক্ষা নিতে পারে। ভালুকপং থেকে বমডিলা, দিরাং, সেলা হয়ে তাওয়াং— এই সফরে শুধু বাইক নয়, নিজের ধৈর্যেরও পরীক্ষা দিতে হবে। এক সময়ে সবুজ পাহাড়, তার পরে পাথুরে ঢাল, বরফ, মেঘ আর নিঃশব্দ উপত্যকা। দিরাং বা তাওয়াংয়ে স্থানীয় হোমস্টে, অতিথিশালা ও বাজেট স্টে-র ব্যবস্থা আছে। গন্তব্যে পৌঁছনোর আনন্দের চেয়ে পৌঁছনোর পথটাই বেশি মনে থাকবে!
০৬ / ১৫
মেঘালয়ের দিকে যাবেন নাকি? রাস্তা এখানে সটান মেঘের ভিতর ঢুকে পড়ে! গুয়াহাটি থেকে শিলং, তার পরে সোরা, মৌসিনরাম, ডাওকি— এক সফরে দৃশ্য বদলে যাবে বায়োস্কোপের বাক্সের মতো। সঙ্গী হবে পাইন বন, ঝরনা, খাড়া পাহাড়, মেঘ আর স্বচ্ছ নদী। মূল রাস্তা ছেড়ে স্থানীয়দের দেখানো ছোট পথ ধরলে অভিজ্ঞতাটা আরও জমে। শিলংয়ে হস্টেল, সোরা ও ডাওকিতে হোমস্টে এবং নদীর ধারে ক্যাম্প— পকেটও বাঁচবে, অভিজ্ঞতাও হবে।
০৭ / ১৫
নাগাল্যান্ডে মানচিত্রের বাইরে একটু ঘোরাঘুরি সেরে নিতেই পারেন। কোহিমা থেকে কিসিমা, ফুতসেরো কিংবা জেসামির দিকে যান। এখানে রাস্তাই যেন অনেক সময়ে আপনাকে বলে দেবে— ধীরে চলো, চারপাশটা দেখো। পাহাড়ি গ্রাম, কাঠের বাড়ি, ধোঁয়া ওঠা রান্নাঘর আর প্রায় অচেনা জীবন। থাকতে চাইলে কোহিমায় হস্টেল, ছোট শহর ও গ্রামে স্থানীয় হোমস্টে আছে। পর্যটনস্থল দেখার চেয়ে মানুষের সঙ্গে বসে চা খাওয়াটাই এখানে অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা।
০৮ / ১৫
পূর্বঘাটের অচেনা মুখ দেওমালি। ওড়িশা মানেই তো শুধু পুরী নয়। কোরাপুট পেরিয়ে দেওমালির দিকে বাইক চালালে বুঝবেন পূর্বঘাট কতটা নাটকীয় হতে পারে। লাল মাটির পথ, পাহাড়ি গ্রাম, ঘন জঙ্গল আর হঠাৎ মেঘে ঢেকে যাওয়া উপত্যকা। দেওমালির চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখার আগে একটু চুপ করে থাকুন। কান পাতুন স্তব্ধতার শব্দে। সে এক অন্য রকম অনুভূতি! কোরাপুটে হোমস্টে ও সস্তায় থাকার জায়গা আছে; নির্দিষ্ট এলাকায় ক্যাম্পের ব্যবস্থাও মেলে।
০৯ / ১৫
হিমালয় নয়, তবু পাহাড়ের স্বাদ চাই? আপনার অপেক্ষায় ঝাড়খণ্ডের পাহাড়ি চমক। রাঁচি থেকে নেতারহাটের রাস্তা ধরুন সোজা। শালবনের মধ্যে দিয়ে মালভূমির পথ, তার হঠাৎ হঠাৎ বাঁক, ছোট জলপ্রপাত আর বিশাল আকাশ— জমিয়ে বাইক চালানোর দারুণ পুরস্কার। পথে লোধ জলপ্রপাত জুড়ে নিতে পারেন গন্তব্য তালিকায়। নেতারহাটে সরকারি অতিথিশালা, হোমস্টে ও ছোট হোটেল আছে। সন্ধ্যার সূর্যাস্তটা রাখুন ম্যাগনোলিয়া পয়েন্টের জন্য।
১০ / ১৫
বিষ্ণুপুর–ঝিলিমিলির পথ ধরেছেন আগে? বাংলার চেনা লালমাটিই দেবে অচেনা স্বাদ। বিষ্ণুপুরের টেরাকোটার মন্দির দেখে পর্যটকের ভিড় থেকে বেরিয়ে পড়ুন। বাইক ঘোরান ঝিলিমিলির দিকে। রাস্তা ঢুকে যাবে শাল-পিয়ালের জঙ্গলে, লাল মাটি ছিটকে উঠবে চাকার নীচে। পথে ছোট গ্রাম, আদিবাসী জনপদ, জলাধার—সব মিলিয়ে একেবারে অন্য বাংলা। ছোট্ট ছুটির জন্য দুর্দান্ত রুট যাকে বলে! বিষ্ণুপুরে হোমস্টে ও অতিথিশালা; ঝিলিমিলিতে বনঘেঁষা থাকার ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন।
১১ / ১৫
দিঘা নয়, উপকূলে থাক অন্য গল্প। দিঘা পৌঁছে ভিড়ে আটকে যাবেন কেন? বাইক নিয়ে শঙ্করপুর, তাজপুর পেরিয়ে আরও নিরিবিলি উপকূলের রাস্তা ধরুন। একদিকে ঝাউবন, অন্যদিকে সমুদ্র; মাঝে জেলেদের ছোট্ট গ্রাম আর কাঁচা রাস্তা। ভোরে সমুদ্রের ধারে বাইক থামিয়ে চা— ব্যস, পুজোর ছুটি জমে ক্ষীর! দিঘা ও তাজপুরে বাজেট হোটেল, হোমস্টে এবং সৈকতের কাছে থাকার জায়গা অঢেল।
১২ / ১৫
খরচের অঙ্ক কষছেন? আপনার ধারণার চেয়ে কিন্তু অনেকটাই কম! নিজের বাইক থাকলে তো কথাই নেই। বাংলা–ঝাড়খণ্ডের কাছাকাছি রুটে দু’জনের জন্য দিনপিছু প্রায় ২,৫০০–৩,৫০০ টাকা। জ্বালানি, ক্যাম্প সাইট বা হোমস্টে, খাওয়া আর ছোটখাটো খরচ মিলিয়ে।
১৩ / ১৫
উত্তরবঙ্গ–সিকিমে দু’জনের জন্য দিনপিছু সেই খরচ গিয়ে দাঁড়াবে ৩,০০০–৪,০০০ টাকার মধ্যে। আর উত্তর-পূর্ব ভারতের পথ ধরলে ৪,০০০–৫,০০০ টাকা।
১৪ / ১৫
সব খরচের হিসেব দৈনিক প্রায় ২০০-৩০০ কিমি চলার ভিত্তিতে ধরা। অর্থাৎ, পুজোর ছুটি মানেই পকেট ফাঁকা নয়। নিজের বাইক থাকলে রাস্তাই সবচেয়ে পকেট-বান্ধব বিলাসিতা!
১৫ / ১৫
আপনি যদি বাইক-প্রেমী হন, অ্যাডভেঞ্চার হাতছানি দেয় যখন-তখন, বেরিয়েই পড়ুন বরং। বাকিটা কি আর বলতে হবে?
