কালবেলা · আন্তর্জাতিক
সেনা নিহতের পর হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনীর বড় অভিযান
২৪/১০/২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় দুই সেনা নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হামলার পর হেবরন শহর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হেবরন শহরের প্রবেশপথে একটি সামরিক চৌকিতে হামলা চালান মোহাম্মদ জাবা ও ফিরাস জাবা নামে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনেরই বয়স ২৭ বছর এবং তারা পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের বাসিন্দা ও একই পরিবারের সদস্য ছিলেন।
এতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। পরে ইসরায়েলি সেনারা হামলাকারীদের বাড়িঘর চিহ্নিত করে সেগুলো ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নেন।
হামলার পর শুক্রবার রাতে হেবরনে বড় ধরনের অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত, সীমান্ত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।
সেনাবাহিনীর দাবি, অস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো খুঁজে বের করা এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। কয়েক দিন ধরে অভিযান চলতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলাকারীদের বসবাস করা পুরো এলাকা ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপকে যৌথ শাস্তি হিসেবে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেমও বাড়িঘর ধ্বংস ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের আশঙ্কা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজার ১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মূল প্রতিবেদনে যান ↗