প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রস্তাবিত বৈঠকের বিষয়ে অসম্মত হয়েছেন। রবিবারই ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’-এর কথা ঘোষণা করেছিল বিরোধী শিবির ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ঠিক হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেবেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শীর্ষনেতারা। যদিও গতকাল রাতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সময় দিতে পারবেন না তিনি। কিন্তু কেন রাজি হলেন না তিনি?
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক দিক দিয়ে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘন হবে। ১১ অক্টোবরের এক চিঠিতে প্রধান বিচারপতি বিরোধী দলের ওই দুই নেতাকে পরামর্শ দেন যে, প্রশাসনিক স্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিবর্তে তাঁরা যেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি তাঁদের এও আশ্বস্ত করেন যে, এসব বিষয়ে কোনো আবেদন করা হলে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব তার শুনানি করা হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এবং দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা ও ট্রেন পরিষেবা বাতিলের বিষয়গুলি নিয়েই কথা বলতে চাইছে বিরোধীরা। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন যে, গান্ধী ও খাড়গে যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘‘সুতরাং, বিচারাধীন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য কোনো বৈঠক ডাকা হলে তা ‘ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি’র (যা ভারতের সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’র একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ) সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে এবং তা প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতা ও বিচারিক শালীনতার সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।”
