কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ইউরোপে হামলার ইস্যুতে রাশিয়াকে ন্যাটোর হুঁশিয়ারি
১২/১০/২০২৬

ইউরোপে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর ভূখণ্ডে রাশিয়া হামলা চালালে জোটের বাহিনী হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সবকিছু ধ্বংস’ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। সোমবার (১২ অক্টোবর) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, মস্কো যদি ‘বোকামি করে’ জোটের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে তার পরিণতি হবে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জেনারেল গ্রিনকিউইচ ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালায়েড কমান্ডার ইউরোপের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে তিনি ন্যাটোর সম্ভাব্য বিজয়ের কৌশল তুলে ধরে বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। তবে সদস্যদেশগুলোর যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে তা প্রতিহত, দুর্বল ও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হবে।
ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে তার এ বক্তব্য এলো। ইউরোপীয় সরকারগুলোর অভিযোগ, নাশকতা, ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও সাইবার হামলার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়িয়েছে মস্কো। অন্যদিকে, গত মাসে রাশিয়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ন্যাটো তাদের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে।
ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে গ্রিনকিউইচ সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার বার্তা মস্কোর উদ্দেশেই ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। ন্যাটোর ২০২২ সালের কৌশলগত ধারণাপত্রে রাশিয়াকে জোটের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
গ্রিনকিউইচ বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের ওপর হামলা করার মতো বোকামি করে, তাহলে আমরা লড়ব। আমরা সেই হামলা থামিয়ে দেব এবং হামলাকারীকে তার লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করব। সংক্ষেপে, যে কোনো মিত্রের ওপর যে কোনো হামলাকে আমরা সম্পূর্ণ অর্থহীন করে তুলব।’
প্রয়োজনে ন্যাটোর জবাব ব্যাপক পাল্টা হামলার রূপ নিতে পারে বলেও মস্কোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে হামলার শিকার এলাকায় থাকা বাহিনীর বাইরেও আঘাত হানা হতে পারে।
গ্রিনকিউইচ বলেন, ‘প্রতিপক্ষ যদি হামলা চালিয়ে যাওয়ার বা রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত তাদের যুদ্ধ পরিচালনাব্যবস্থাকে আমরা ভেঙে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে শুধু হামলাকারী বাহিনীই নয়, বরং সেই বাহিনীকে সহায়তা করে, টিকিয়ে রাখে ও নিয়ন্ত্রণ করে; এমন সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত।’
সূত্র : রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗