সংবাদ · সাধারণ
রেলওয়ের জমি দখল ও টাকা আত্মসাৎ, সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা
২১/১০/২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের আড়াই একরের বেশি জমি অবৈধভাবে দখল এবং কোটি টাকার বেশি সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে মিরসরাইয়ের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি লঙ্ঘন করে কারখানা ও অবকাঠামো নির্মাণের অভিযোগে এ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম-২ কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক তাপসী বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলো ব্লক কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিঙ্গুলী মৌজায় রেলওয়ের ৩ দশমিক ৭৬৫৪ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ পেতে আবেদন করেছিলেন মাহবুব রহমান রুহেল। তবে লিজ মঞ্জুর হওয়ার আগেই তিনি অবৈধভাবে জমিটি দখলে নেন এবং সেখানে ৬ হাজার ৪৮৯ বর্গফুটের একটি সেমিপাকা কারখানা ও ৯৯০ বর্গফুটের একটি দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ শুরু করেন।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্যের নামে কৃষি ও মৎস্য চাষের জন্য বরাদ্দকৃত লিজের জমি এবং বিএস ৫১২০ দাগের একটি পুকুর ভরাট করে তিনি নিজের দখলে নেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ভূসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা শিথিল করে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘গ্যাসমিন লিমিটেড’-কে বিএস ৫১১৯ দাগ থেকে ০ (শূন্য) দশমিক ৭৪ একর (৩২ হাজার ১৩০ বর্গফুট) জমি বার্ষিক নবায়নের ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়।তবে দুদকের সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনুমোদিত শূন্য দশমিক ৭৪ একরের বিপরীতে বিএস ৫১১৯ ও ৫১২০ দাগের মোট ২ দশমিক ২৮ একর (২২৮ শতক) জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সাবেক এই এমপি। দখল করা এই বিস্তৃত জমিতে বর্তমানে কারখানা, অফিস ভবন, মসজিদ, অজুখানা, পানির ট্যাংক এবং ব্লক শুকানোর ও রাখার জন্য বিশাল মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।রাজস্ব ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমোদিত শূন্য দশমিক ৭৪ একর জমির বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ সর্বমোট ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ তার প্রকৃত দখলে থাকা ২ দশমিক ২৮ একর জমির বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্বের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টাকা। ফলে অতিরিক্ত ১৫৪ শতক জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্যবহার করার মাধ্যমে তিনি সরকারের ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকার বিপুল রাজস্ব ফাঁকি ও আত্মসাৎ করেছেন।দুদক মামলার বিবরণীতে এই অপরাধের সময়কাল ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। অভিযুক্ত মাহবুবে রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪২৭ ও ৪৪৭ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, সম্পত্তি বিনাশ ও অবৈধ দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।এজাহারে স্পষ্ট করা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলাকালে এই অনিয়ম ও দখলের সাথে অন্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗