বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দিনেও ক্লাস নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষক। এতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই অনুষদের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও র্যালিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। তবে র্যালিতে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। বিভাগটির কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে র্যালিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, র্যালি চলাকালে সকাল ১০টায় ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সজিব মিয়া একটি ক্লাস নেন। এতে ওই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা র্যালিতে অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একই শিক্ষকের দুপুর ২টায় আরও একটি ক্লাস নির্ধারিত রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ দিন। অথচ এ দিনেও আমাদের ক্লাস নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ক্লাস বন্ধ থাকার কথা। বিভাগ থেকে আমাদের র্যালিতে অংশগ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কোর্স শিক্ষক ড. মো. সজিব মিয়া বলেন, ‘আজকে ছুটি, ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাবে না, বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নূর আলম সিদ্দিক বলেন, এটি অফিসিয়াল কোনো ক্লাস নয়। আর ক্লাস তো নেওয়ার কথা না। আমি বিভাগে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখব।
র্যালিতে বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নানি অসুস্থ। এ কারণে আমি এখানে আছি। বিষয়টি আমি বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখব।’
অন্যদিকে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা র্যালিতে ছিলাম। আমি ও আরেকজন এবং আমাদের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। এ কারণে শেষ পর্যন্ত আমরা র্যালিতে থাকতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছুটির দিনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করব।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীদের র্যালিতে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘র্যালির ব্যানার তৈরি করে দেওয়ার পরও যদি তারা অংশগ্রহণ না করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা নেই, বিষয়টি তারই বহিঃপ্রকাশ।
