বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী পল্লীমঙ্গল হয়ে সন্ন্যাসী নতুন ফেরিঘাট পর্যন্ত নির্মাণাধীন সাত কিলোমিটার ডাবল কার্পেটিং সড়ক ও ফেরি চলাচলের পল্টুন নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সন্ন্যাসী নতুন ফেরিঘাট এলাকায় চলমান নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, সওজের জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বদিউজ্জামান খোকনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার সঙ্গে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পল্লীমঙ্গল হয়ে সন্ন্যাসী দিয়ে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত কিলোমিটার ডাবল কার্পেটিং সড়ক ও পল্টুন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুছি, বলেশ্বর ও কচা নদীর মোহনায় নদীতীরবর্তী সন্ন্যাসী এলাকায় ফেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নদীর অপর প্রান্তে জিয়ানগর উপজেলার কলারন গ্রামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পিরোজপুর জেলা ও বরিশাল বিভাগের সঙ্গে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ সহজ করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিকল্পিতভাবে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বরিশাল হয়ে মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়।
এমপি আলিম আরও বলেন, কলারন-সন্ন্যাসী ফেরি চলাচলের উদ্যোগ এবং প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নতুন সাত কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে। দীর্ঘদিন পর হলেও সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এ যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে তিন জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
