গুজরাট সরকার একটি বিতর্কিত জমি ইউসুফ পাঠানকে দিতে রাজি হয়েছে। পাঠান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্যও। জমিটি বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের, সংক্ষেপে ভিএমসির। জমির আয়তন ৯৭৮ বর্গমিটার। এটি তান্দালজা এলাকায়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫০০ বর্গমিটার জমি পাঠানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। এটি থাকার কাজে ব্যবহার করতে হবে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার তিনি কিনবেন। দাম ধরা হবে মূল্যায়ন করা দামের ৫৫ শতাংশ। ভিএমসির কমিশনার অরুণ মহেশ বাবু নিশ্চিত করেছেন, পাঠানের চাওয়া জমির বিষয়ে সরকারের অনুমোদন এসেছে। তিনি বলেন, ‘তবে খুঁটিনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটিকে ভিএমসির স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ডের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’ প্রথমে স্থায়ী কমিটি প্রস্তাবটি দেখবে। এরপর সাধারণ বোর্ডে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
সবশেষ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জেতে। এরপর ২০২৬ সালের ১৪ জুন পাঠান ও তৃণমূলের আরও কয়েকজন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন। তারা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। সংক্ষেপে দলটির নাম এনসিপিআই। পাঠান দলটির জাতীয় সহ-সভাপতি হয়েছেন।
ভিএমসির ভূমি ও সম্পত্তি বিভাগ প্রস্তাবটি তৈরি করেছে। জমিটি তান্দালজার টাউন প্ল্যানিং স্কিম ২২-এর ৯০ নম্বর চূড়ান্ত প্লট। ভিএমসির অনুমোদিত হিসাবে প্রতি বর্গমিটারের দাম ২ লাখ ১০ হাজার রুপি। সেই হিসাবে জমির আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি ৫৩ লাখ রুপি।
সরকারের আদেশ আগস্টের শেষে ভিএমসির কাছে পৌঁছায়। এরপর পাঠান হাইকোর্টে করা তার আপিল তুলে নেন। আপিলটি ছিল তার আগের দাবি খারিজের বিরুদ্ধে।
আদেশ অনুযায়ী, ৪৭৮ বর্গমিটারের দাম ধরা হবে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চের মূল্যায়নে। মূল্যায়ন করেছে বরোদা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মূল্যায়ন কমিটি। তাতে পাঠান ৪৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
আদেশে আরও বলা আছে, এটি ভবিষ্যতের একই ধরনের মামলার জন্য নজির হবে না। রাজস্ব বিভাগ ভিএমসিকে সমান মূল্যের অন্য জমি দেবে।
বিতর্ক শুরু হয় ২০১২ সালে। তখন পাঠান নিজের পরিবারের বাড়ির পাশের জমিটি ৯৯ বছরের ইজারায় চান। আবেদনে তিনি নিরাপত্তার কথা বলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তার পরিচয়ের কারণে ঝুঁকি আছে বলে জানান। পাশের জমি থাকার জন্য সুবিধাজনক হবে বলেও লেখেন।
স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ড নিলাম ছাড়াই সরাসরি তাকে জমি দিতে রাজি হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে যায়। ২০১৪ সালের জুনে নগর উন্নয়ন বিভাগ প্রস্তাব নাকচ করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, দামি জমির জন্য প্রকাশ্য নিলাম বা খোলা দরপত্র দরকার।
ভিএমসির অভিযোগ, প্রস্তাব নাকচের পরও পাঠান জমিতে বেড়া দিয়ে দখল করেন। ২০২৪ সালের জুনে বিষয়টি আবার সামনে আসে। তার কয়েকদিন আগে তিনি লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। তখন ভিএমসি তাকে নোটিশ দেয়। কথিত দখল সরাতে বলা হয়।
পাঠান এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান। তার আইনজীবীরা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের জমি দেওয়ার সরকারি নীতির কথা তোলেন। ভিএমসির যুক্তি ছিল, জমিটি পৌরসভার। নিয়ম মেনে ছাড়া এটি কাউকে দেওয়া যায় না।
২০২৫ সালের আগস্টে হাইকোর্ট সরকারের নাকচের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালত বলে, বরাদ্দের আদেশ ও টাকা ছাড়া দীর্ঘদিন জমি দখলে রাখলে তাতে আইনি অধিকার জন্মায় না।
এরপর পাঠান আপিল করেন। ২০২৬ সালের জুনে শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে। বরাদ্দের নিয়ম শেষ না করে ও টাকা না দিয়ে তিনি সরকারি জমি কীভাবে দখলে নিলেন, তা জানতে চায় আদালত। আদালত সতর্কও করে। বলে, দখল চালিয়ে গেলে তার আর্থিক দায় বাড়তে পারে। ৩১ আগস্ট পাঠান শর্ত ছাড়াই আপিল তুলে নেন। এরপরই এবার তিনি সুখবর পেলেন জমিটি নিয়ে।