দেশব্যাপী হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নগদ সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে অগ্রাধিকার ও বহির্ভুক্তির কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী একযোগে এই কর্মসূচির জন্য পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমাজের প্রকৃত দুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের হাতে এই সহায়তা পৌঁছে দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুররা এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত নারী অভিবাসী পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য রয়েছে এমন পরিবারগুলোও এই তালিকার শীর্ষে থাকবে। ভূমিহীন বলতে যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই কিংবা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই, তাদের বোঝানো হবে।
অন্যদিকে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নীতিমালায় আটটি সুনির্দিষ্ট শর্ত সংবলিত একটি বহির্ভুক্তির তালিকা বা ‘নেগেটিভ লিস্ট’ তৈরি করা হয়েছে। এই শর্তগুলোর যেকোনো একটি পূরণ হলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার বেশি স্কোর থাকা, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী হওয়া, নিয়মিত সরকারি পেনশন গ্রহণ করা এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকা। পাশাপাশি বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকা, নিয়মিত করদাতা হওয়া এবং বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি কিংবা অকৃষি জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এই সুবিধা মিলবে না।
তথ্য সংগ্রহের এই কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করবেন। তথ্য দেওয়ার জন্য কোনো প্রকার অর্থের প্রয়োজন নেই জানিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তালিকাভুক্তির নাম করে কেউ টাকা দাবি করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলোর (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, টিআইএন, সঞ্চয়পত্র এবং সরকারি কর্মচারী ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দ্বৈততা যাচাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ছাড়াই প্রকৃত ও deserving পরিবারগুলো এই জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) নগদ সহায়তার সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারে।
