Published on
:
2 min read
রবিবার ছুটির দিন, তার উপরে দ্বিতীয় সপ্তমী। কিন্তু রাস্তাঘাটে ভিড় নেই। সব আলো যেন শুষে নিয়েছে চোরবাগান সর্বজনীনের বিপর্যয়। কী ভাবে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হলো? অবশেষে এই সময় অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন চোরবাগান সর্বজনীনের থিম শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল।
ঘটনার আগের দিন মানে শুক্রবার মাঝরাত পর্যন্ত তিনি চোরবাগানেই ছিলেন। সুশান্তর কথায়, ‘আগের দিন রাত সাড়ে ৩টে পর্যন্ত চোরবাগানেই ছিলাম। অসংখ্য লোক, এত ভিড়ের চাপ, কী ভাবে যে এমন ঘটনা ঘটল...।’ শিল্পী কার্যতই বাকরুদ্ধ। এখনও যেন ঘোর কাটছে না তাঁর। নিজেই বললেন, ‘আমি ঠিক কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই।’
শব্দের ঊর্ধ্বে নৈঃশব্দ্যের আরাধনা, অ-বর — এটাই ছিল এ বারে চোরবাগানের থিম। সেই ভাবেই সাজানো হয়েছিল প্রতিমা থেকে মণ্ডপ। অভিযোগ, তার জন্যই আলো কম রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে বেরোনোর গেটে। অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন শিল্পী। বলে দিলেন, ‘কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশ মতো প্যান্ডেলের মধ্যে পর্যাপ্ত মেটালের আলো লাগানো হয়েছিল। উপর থেকে অস্থায়ী ভাবে আলোর বন্দোবস্তও করেছিলাম আমরা।’ সব স্ট্রিট লাইটও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
পুরো মণ্ডপের দু’টো ভাগ। উপর আর নীচ। কলকাতা পুলিশের তরফে উপরের দিকটা ঘিরে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানালেন শিল্পী সুশান্ত। তাঁর কথায়, ‘সেই মতো ডেকরেটার্সের লোকজন উপরটা কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। যাতে কেউ ছবি তুলতে না পারে।’ তার পরেও দুর্ঘটনা কী ভাবে ঘটল? বৃষ্টির কারণে অনেকেই মণ্ডপে দাঁড়িয়ে যান বলে দাবি সুশান্তর। তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভিতরে ছিলেন। তাঁরা বেরোতে পারেননি বা চাননি। তার পরে আরও অনেকে ঢুকে পড়েন। তাতেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।’
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
