জাতিসংঘ দিবস কেবল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা পর্যালোচনার উপলক্ষ। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে সংস্থাটির যাত্রা শুরু হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে গাজা, ইউক্রেন ও সুদানের সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, বৈশ্বিক বৈষম্য এবং মানবিক সহায়তার সংকট প্রশ্ন তুলছে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জাতিসংঘ কতটা কার্যকর?
এই সংকট শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার ফল নয়। বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অর্থসংকট জাতিসংঘের কার্যকারিতা সীমিত করছে। তাই এবারের জাতিসংঘ দিবসের মূল তাৎপর্য অতীতের অর্জন স্মরণে নয়; বরং এমন একটি বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থার দাবি জোরালো করা, যেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির চেয়ে আন্তর্জাতিক আইন, আধিপত্যের চেয়ে সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে মানুষের জীবন ও মর্যাদা অগ্রাধিকার পাবে।
যুদ্ধ থামানোর ক্ষমতা কোথায়?
জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। এর পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন—ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। ফলে কোনো স্থায়ী সদস্যের স্বার্থবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আটকে যেতে পারে। ১৯৪৫ সালে ক্ষমতার ভারসাম্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং সুদানের মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী হওয়ায় সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জাতিসংঘের প্রস্তাব ও কূটনৈতিক আহ্বান বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা জাতিসংঘকে অপ্রয়োজনীয় করে না। সাধারণ পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত, মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাতিসংঘ আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। কিন্তু এসব উদ্যোগের সাফল্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এখানেই জাতিসংঘের মৌলিক দ্বন্দ্ব, যেসব রাষ্ট্রের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, তাদের সহযোগিতা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে না।
মানবিক বিপর্যয় ও অর্থসংকটের যুগল চাপ
যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু সংঘাতের সংখ্যা দিয়ে বোঝা যায় না। এর প্রকৃত মূল্য বহন করে ঘরহারা মানুষ, শিক্ষাবঞ্চিত শিশু এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত পরিবারগুলো। ইউএনএইচসিআরের গ্লোবাল ট্রেন্ড ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১১ কোটি ৭৮ লাখ। সংঘাত, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি আন্তর্জাতিক মানবিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করছে।
অথচ প্রয়োজন বাড়লেও সহায়তার অর্থ জোগাড় করা কঠিন হচ্ছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছরের জন্য ইউএনএইচসিআরের প্রয়োজনীয় ৮৫০ কোটি ডলারের বিপরীতে সংস্থাটি পেয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রয়োজনের প্রায় ৩৫ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে। অর্থসংকটের কারণে শরণার্থীদের সুরক্ষা, নিবন্ধন ও আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, জাতিসংঘের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তার মানবিক সক্ষমতা রক্ষা করাও জরুরি। প্রশাসনিক ব্যয় কমানো প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তার ফলে জীবনরক্ষাকারী সেবা দুর্বল হলে সংস্কারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও প্রত্যক্ষ। ২০২৬ সালের রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জন্য ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে। খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষার পাশাপাশি পরিকল্পনায় নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ, স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেলে আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ে। সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে থাকা সত্ত্বেও এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় যেন বাংলাদেশকে এককভাবে বহন করতে না হয়, সে জন্য জাতিসংঘের ধারাবাহিক ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের সংস্কার: দক্ষতা, অর্থায়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন
জাতিসংঘের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৫ সালে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস UN80 Initiative চালু করেন। এর লক্ষ্য সংস্থাটিকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও দ্রুত সাড়াদানে সক্ষম করা। তবে সংস্কার যেন ব্যয় সংকোচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কার্যকারিতা বাড়ানোর নামে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সংকুচিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দুর্বল জনগোষ্ঠী।
আরও পড়ুন
সংস্কারকে তিনটি স্তরে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রথমত, প্রশাসনিক সংস্কার। বিভিন্ন সংস্থার কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো, অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা জরুরি। তবে এ প্রক্রিয়ায় মাঠ পর্যায়ের উপস্থিতি ও বিশেষজ্ঞ সক্ষমতা দুর্বল করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আর্থিক সংস্কার। সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে নির্ধারিত চাঁদা সময়মতো পরিশোধ করতে হবে। পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন, কার্যকর নিরীক্ষা এবং ব্যয়ের ফলাফল সম্পর্কে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু কর্মী ছাঁটাই বা দপ্তর পুনর্বিন্যাস করে দীর্ঘমেয়াদে জাতিসংঘের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নয়।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। নিরাপত্তা পরিষদে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভেটো ক্ষমতার প্রয়োগে স্বচ্ছতা, গণহত্যা ও ব্যাপক নৃশংসতার ক্ষেত্রে ভেটো ব্যবহারে সংযম এবং সাধারণ পরিষদের ভূমিকা জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার কঠিন হলেও বর্তমান কাঠামোর সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থা: অঙ্গীকার আছে, বাস্তবায়ন কতটা?
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার গ্রহণ করে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল গ্লোবাল ডিজিটাল কম্প্যাক্ট এবং ডিক্লারেশন অন ফিউচার জেনারেশনস। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল বিস্তৃত করা।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার গ্রহণের চেয়ে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গসমতা ও জলবায়ু অভিযোজনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে এসব অঙ্গীকার কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল বৈষম্যও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তন খাদ্যনিরাপত্তা, অভিবাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও করণীয়
জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত নীতিনিষ্ঠ, বাস্তববাদী ও সক্রিয়।
প্রথমত, নিরাপত্তা পরিষদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশকে ধারাবাহিক কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে হবে। এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নশীল বিশ্বের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ সমর্থন করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গা সংকটকে কূটনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, মিয়ানমারে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরিতে বহুপক্ষীয় চাপ বজায় রাখা এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বাস্তব শর্ত তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু ত্রাণের অর্থ সংগ্রহ করে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান হবে না।
তৃতীয়ত, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, জলবায়ু কূটনীতি ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণচাপ, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশকে সক্রিয় থাকতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর অর্থনৈতিক অভিযোজনের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
জাতিসংঘকে দুর্বল নয়, কার্যকর করতে হবে
জাতিসংঘের সমালোচনা প্রয়োজন, কিন্তু আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণাকে বাতিল করা সমাধান নয়। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুচ্যুতি, মহামারি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো সংকট কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আরও বিভক্ত বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠলে তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে ছোট রাষ্ট্র, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও সংঘাতের শিকার মানুষকে।
তাই প্রয়োজন এমন সংস্কার, যা প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে, আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে। ২৪ অক্টোবরের তাৎপর্য এখানেই। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর যে আকাঙ্ক্ষা থেকে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ২০২৬ সালে সেই অঙ্গীকার নতুন বাস্তবতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর জন্য সচিবালয়ের পুনর্গঠন যথেষ্ট নয়; সদস্যরাষ্ট্রগুলোকেও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে, অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবন ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশের প্রত্যাশা একটি কার্যকর জাতিসংঘ, যেখানে সামরিক শক্তি মানুষের অধিকারের ঊর্ধ্বে থাকবে না, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে এবং জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
জাতিসংঘের ৮১তম বছরে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সংস্থাটি টিকে থাকবে কি না, তা নয়।
প্রশ্ন হলো, বিশ্বনেতারা কি এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাবেন, যার প্রয়োজনীয়তা প্রতিটি বড় বৈশ্বিক সংকটেই নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে?
আবু সাঈদ মো. নাজমুল হায়দার : সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
asmnh.04@ru.ac.bd
